ক্রমাগত কমে আসা জন্মহার ও জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা মোকাবিলায় নতুন আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে ভুটান সরকার। পরিবারগুলোকে আরও বেশি সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে তৃতীয় ও পরবর্তী সন্তানদের জন্য মাসিক নগদ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ৪ জুন বা এর পর জন্ম নেওয়া তৃতীয় এবং পরবর্তী প্রতিটি সন্তানের জন্য পরিবারগুলোকে মাসে ১০ হাজার গুলট্রাম (প্রায় ১০৫ মার্কিন ডলার) প্রদান করা হবে। শিশুর বয়স তিন বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
সরকার আরও জানিয়েছে, ৪ জুনের আগে জন্ম নেওয়া তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানদের ক্ষেত্রেও এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে, যদি তাদের বয়স এখনও তিন বছরের নিচে থাকে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব কেসাং ডেকি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, দ্বিতীয় সন্তানের পর যত সন্তানই জন্ম নিক না কেন, প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এই প্রণোদনা কার্যকর হবে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ভুটানে মোট জন্মের সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ১ জন, যা ২০২৪ সালে কমে ৮ হাজার ১৫৩-এ নেমে এসেছে। অর্থাৎ এক দশকেরও কম সময়ে জন্মহার প্রায় ২৬ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে মোট প্রজনন হারও কমে প্রায় ২ দশমিক ১-এ পৌঁছেছে, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সীমার কাছাকাছি।
ভুটান সরকারের মতে, কম জন্মহার, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিদেশমুখী অভিবাসন ভবিষ্যতে দেশটির শ্রমবাজার, সামাজিক কাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে বিপুলসংখ্যক তরুণ ভুটানি বিদেশে চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছে সরকার।
সরকার বলছে, নতুন এই উদ্যোগ শুধু জন্মহার বৃদ্ধির জন্য নয়; মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুকল্যাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাগত ভারসাম্য রক্ষার বৃহত্তর পরিকল্পনারও অংশ।
এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবেশী ভারতের সিকিম রাজ্যও ২০২৩ সালে জন্মহার বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে ছিল নারীদের জন্য এক বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি, পুরুষদের জন্য এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং আইভিএফ চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা।
