ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছে। দেশটির আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও জরুরি পরিসেবার বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

রাশিয়া সারারাত ধরে রাজধানী কিয়েব সহ বিভিন্ন শহরকে লক্ষ্য করে ৩৬৭টি ড্রোন ও মিসাইল দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া উত্তরের শহর ঝিতমিরে তিনজন শিশু নিহত হয়েছে ।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তিনি টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘ চুপ থাকা আমেরিকা এবং অনন্যা বিশ্ব পুতিনকে উৎসাহ দিচ্ছে।’
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে রাশিয়া এবং তার নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি নরম জনমত গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ রাশিয়ার প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলাই নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের যথেষ্ট কারণ।’
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটি ছিল অস্ত্র ব্যবহারের দিক থেকে সবচেয়ে বড় হামলা, যদিও এর আগে আরও কিছু হামলায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে।
এই হামলার সময়ই ইউক্রেন ও রাশিয়া বন্দি বিনিময়ের তৃতীয় ও চূড়ান্ত দিনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল—যেখানে উভয় পক্ষই এক হাজার করে বন্দি বিনিময় করবে।
ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা রাশিয়ার ওপর চাপ দিচ্ছে ৩০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে, যা তিন বছরের দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান ঘটানোর আলোচনার প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপে অস্বীকৃতি জানালে কিয়েভের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ধাক্কা খায়। ইউক্রেন চেয়েছিল যুদ্ধবিরতিতে অবিলম্বে সম্মত না হওয়ায় রাশিয়ার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করুক যুক্তরাষ্ট্র।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর হামলায় ২৯৮টি ড্রোন এবং ৬৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে তারা দাবি করেছে, এর মধ্যে ২৬৬টি ড্রোন ও ৪৫টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে একাধিক আঞ্চলিক শহরে, যার মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ, দক্ষিণের মাইকোলাইভ এবং পশ্চিমাঞ্চলের তেরনোপিল।
রাজধানী কিয়েভে শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান টাইমুর তকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, ড্রোন হামলায় ১১ জন আহত হয়েছেন। তবে রাজধানীতে কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। যদিও শহরের আশেপাশের এলাকায় চারজন নিহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এটি ছিল দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় বড় আকাশ হামলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাশিয়া একের পর এক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যা সারা রাত ধরে অব্যাহত ছিল।

উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ শহরে মেয়র ইহোর তেরেখভ জানান, রবিবার ভোরে ড্রোন হামলায় শহরের তিনটি জেলায় বিস্ফোরণ ঘটে এবং তিনজন আহত হন। উঁচু দালানের জানালাগুলো ভেঙে পড়ে।
দক্ষিণের শহর মাইকোলাইভে ড্রোন হামলায় ৭৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিহত হন এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর। তিনি একটি আবাসিক ভবনের ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে বিস্ফোরণে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং চারপাশে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।
ফ্রন্টলাইন থেকে অনেক দূরের পশ্চিমাঞ্চলীয় খমেলনিতস্কি অঞ্চলে চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রাদেশিক গভর্নর।
“চাপ ছাড়া কিছুই বদলাবে না। রাশিয়া ও তার মিত্ররা এভাবে পশ্চিমা দেশগুলোতে হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য শক্তি গড়ে তুলতেই থাকবে,” টেলিগ্রামে লিখেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রধান সহকারী আন্দ্রি ইয়েরমাক।
“রাশিয়া যতদিন অস্ত্র উৎপাদনে সক্ষম থাকবে, ততদিন লড়াই চালিয়ে যাবে।”
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী চার ঘণ্টায় ৯৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে বা ভূপাতিত করেছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোব্যানিন বলেছেন, রাজধানীমুখী ১২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
