এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে নেপালে ৬২৬ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ২,৪২৬ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭ জনের মৃত্যু এবং ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অর্থাৎ নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৩৩ জনের মৃত্যু এবং ২,৯৮০ জনের নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, এ সংখ্যা আরো বেশ কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে যেহেতু উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান এখনো চলমান, ফলে এই সংখ্যা যে চূড়ান্ত নয়, সেই আশঙ্কাই প্রবল। ভূমিকম্প নয়, বরফ-পাথরের মহাধসবিপর্যয়ের পর প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, কোনো ভূমিকম্প হয়তো এই ভয়াবহ ঘটনার সূচনা করেছে। কিন্তু পরবর্তী বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রায় ৫,২০০ মিটার উচ্চতায় থাকা একটি হিমবাহের নিচের বিশাল অংশ ভেঙে প্রায় ১,২০০ মিটার নিচের উপত্যকায় আছড়ে পড়ে। শুধু বরফ নয়, এর সঙ্গে নেমে আসে বিপুল পরিমাণ পাথর ও মাটি। অর্থাৎ এটি ছিল এক বিশাল ice-rock avalanche, যার শক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে এর অভিঘাত ভূকম্পনের মতো সংকেতও তৈরি করে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS-এর বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, প্রথমে যে কম্পনকে ভূমিকম্প হিসেবে মনে করা হয়েছিল, সেটি আসলে বরফ-পাথরের বিশাল ধসের কারণে উৎপন্ন ভূকম্পন হতে পারে। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আমরা সাধারণত ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় কিংবা বন্যাকে আলাদা আলাদা দুর্যোগ হিসেবে দেখি। কিন্তু হিমালয়ের মতো ভঙ্গুর পার্বত্য অঞ্চলে একটি প্রাকৃতিক ঘটনা মুহূর্তেই আরেকটি ভয়াবহ দুর্যোগের জন্ম দিতে পারে। একটি হিমবাহ ভাঙল, তার সঙ্গে পাহাড়ি ঢাল থেকে পাথর-মাটি নামল, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলো এবং তারপর সেই বাধা ভেঙে সৃষ্টি হলো প্রচণ্ড আকস্মিক বন্যা। অর্থাৎ কয়েকটি বিপজ্জনক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি জনপদের চিত্র বদলে দিয়েছে। মাত্র ৩০ মিনিটে নয় মিটার পানি! পালানোর সময় কোথায়? বিশাল বরফ-পাথরের ধস নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করার পর বিপুল পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ প্রচণ্ড শক্তিতে নিচের দিকে ছুটে আসে। এর প্রভাব পড়ে Bhote Koshi ও Trishuli নদী ব্যবস্থায়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো স্থানে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে নদীর পানির উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়। স্বাভাবিক বন্যায় অনেক ক্ষেত্রে পানি ধীরে ধীরে বাড়ে। মানুষ কিছুটা হলেও প্রস্তুতির সময় পায়। কিন্তু পাহাড়ি আকস্মিক বন্যার চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আধঘণ্টার মধ্যে যদি একটি নদীর পানি প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়, তাহলে সতর্কবার্তা পাওয়া থেকে শুরু করে পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো সবকিছুর জন্য মানুষের হাতে সময় থাকে অত্যন্ত সামান্য। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যার স্রোত পুরো বসতিপূর্ণ এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। বিভিন্ন ভিডিওতে ভবন ও সেতুকে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হতে দেখা গেছে। সেখানে মানুষের অসহায়ত্ব ছিল প্রায় সম্পূর্ণ। আমরা প্রযুক্তি দিয়ে নদীর গতিপথ বিশ্লেষণ করতে পারি, স্যাটেলাইট দিয়ে হিমবাহ পর্যবেক্ষণ করতে পারি, আগাম সতর্কবার্তার ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে পারি। কিন্তু প্রকৃতির শক্তিকে থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা মানুষের নেই। মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি তাই প্রকৃতিকে জয় করা নয়; বরং প্রকৃতিকে বোঝা, তার সংকেত পড়া এবং যথাসম্ভব ক্ষয়ক্ষতি কমানোর প্রস্তুতি নেওয়া। ছয় শতাধিক মৃত্যু, প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ! এই বিপর্যয়ের মানবিক মূল্য সবচেয়ে ভয়াবহ। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দুর্গম এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়াও এর অন্যতম কারণ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ২৯ আগস্টের সর্বশেষ প্রতিবেদনে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, নেপালে এখন পর্যন্ত ৬২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২,৪২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। একই সময়ে চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭ জনের মৃত্যু এবং ৫৫৪ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। অর্থাৎ দুই অঞ্চল মিলিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২,৯৮০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি জীবন, একটি অসমাপ্ত গল্প। কারো সন্তান ফিরছে না, কারো বাবা-মায়ের খোঁজ নেই, কেউ হয়তো এখনো অপেক্ষা করছেন উদ্ধারকারীদের জন্য। আরো উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক, কর্মী ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন। অনেকেই পবিত্র মাউন্ট কৈলাসে যাওয়ার পথে এই দুর্যোগে আটকা পড়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। ফলে এটি শুধু নেপাল কিংবা তিব্বতের স্থানীয় ট্র্যাজেডি হয়ে থাকেনি; আন্তর্জাতিক মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে। এপি-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনেও নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিক থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতির কয়েক মিনিট বনাম মানুষের কয়েক দশকের নির্মাণ ফরাসি সংবাদপত্র লে মোঁদের (Le Monde) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং বহু কিলোমিটার সড়ক ধ্বংস হয়েছে। জনপ্রিয় পর্যটন ও ট্রেকিং এলাকার জনপদও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এখানে নেপালের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটের প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। হিমালয় নেপালের পরিচয়, পর্যটনের অন্যতম ভিত্তি এবং নদীনির্ভর জলবিদ্যুৎ দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ একই পাহাড়, একই হিমবাহ এবং একই নদীব্যবস্থা যখন অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে, তখন জীবন ও জীবিকার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি, যোগাযোগ এবং পর্যটন অবকাঠামোও ঝুঁকিতে পড়ে। একটি সেতু নির্মাণে কয়েক বছর লাগতে পারে। পাহাড়ি সড়ক তৈরি করতে বিপুল অর্থ ও শ্রম প্রয়োজন। একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে উঠতে সময় লাগে আরো বেশি। অথচ প্রকৃতির একটি আকস্মিক পরিবর্তন কয়েক মিনিটের মধ্যে এসব অবকাঠামোকে অকার্যকর করে দিতে পারে। এই বৈপরীত্যই মনে করিয়ে দেয়, মানুষ প্রকৃতির ওপর স্থাপনা নির্মাণ করতে পারে, কিন্তু প্রকৃতির মৌলিক শক্তির ওপর তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। জলবায়ু পরিবর্তন কি এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে? এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী প্রশ্ন, হিমবাহের এত বড় অংশ কেন ভেঙে পড়ল? এর চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে শুধু জলবায়ু পরিবর্তনকেই সরাসরি এই নির্দিষ্ট বিপর্যয়ের একমাত্র কারণ হিসেবে ঘোষণা করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক হবে না। কিন্তু হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সম্পর্কও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন দশকের কিছু বেশি সময়ে নেপালের বরফাচ্ছাদিত পর্বতগুলো প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে। সাম্প্রতিক দশকে আগের দশকের তুলনায় হিমবাহ গলার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সমস্যাটি শুধু বরফ গলে নদীতে পানি বাড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহের কাঠামো দুর্বল হতে পারে, পারমাফ্রস্ট গলে পাহাড়ের স্থিতিশীলতা কমতে পারে এবং বরফ-পাথরনির্ভর ঢাল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তন পাহাড়ি অঞ্চলের ঝুঁকির প্রকৃতিই বদলে দিতে পারে। তবে বর্তমান বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে দ্রুত তুষার গলা, পাহাড়ের ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতা, নির্মাণকাজসহ একাধিক সম্ভাব্য কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ শেষ হওয়ার আগে একক কোনো কারণকে দায়ী করা তাই সমীচীন নয়। এই সতর্কতাটি জরুরি। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে বিজ্ঞানের চেয়ে আবেগকে বড় করলে শেষ পর্যন্ত সত্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বরং আমাদের বুঝতে হবে, পরিবর্তিত জলবায়ু ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিমালয় অঞ্চলের বিদ্যমান বিপদগুলোকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। উদ্ধারকারীরাও লড়ছেন প্রকৃতির বিরুদ্ধেই নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সহায়তার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হলো, যে পথ দিয়ে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাবে, সেই সড়কই অনেক জায়গায় নেই; যে সেতু পার হয়ে দুর্গত এলাকায় যেতে হবে, সেটিই ভেঙে গেছে। কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্তূপ, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি উদ্ধার অভিযানকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। ২৯ আগস্টও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নেপালে হেলিকপ্টারভিত্তিক উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। অনুসন্ধান চলছে বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে আপার ট্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প (Upper Trishuli-1 Hydropower Project) এলাকায়, যেখানে বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। প্রকৃতির দুর্যোগ তাই শুধু প্রথম আঘাতেই প্রাণ নেয় না। রাস্তা ও যোগাযোগ ধ্বংস করে দিয়ে পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমকেও বাধাগ্রস্ত করে। সময়ের সঙ্গে তখন শুরু হয় আরেক যুদ্ধ, জীবিত মানুষকে দ্রুত খুঁজে বের করার যুদ্ধ। প্রকৃতিই সর্বময় তাই আত্মসমর্পণ নয়, প্রয়োজন দূরদর্শিতা ‘প্রকৃতিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী’-এই উপলব্ধির অর্থ এই নয় যে মানুষ অসহায় হয়ে বসে থাকবে। বরং এর অর্থ হলো, মানুষকে নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে হবে। প্রকৃতির ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অহংকারের পরিবর্তে প্রকৃতির আচরণ বোঝার বিজ্ঞানকে গুরুত্ব দিতে হবে। হিমালয়ের মতো অঞ্চলে এখন আরো শক্তিশালী হিমবাহ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, নিয়মিত স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারি, ঝুঁকিপূর্ণ নদী ও উপত্যকায় কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা (early-warning system), দুর্যোগসহনশীল সড়ক-সেতু ও অবকাঠামো এবং দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হিমালয় কোনো একটি দেশের একক ভূপ্রকৃতি নয়। এখানকার নদী, হিমবাহ এবং জলবায়ু ব্যবস্থার প্রভাব সীমান্ত অতিক্রম করে। তাই নেপাল, চীন, ভারতসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে হিমবাহ, নদীর প্রবাহ, সম্ভাব্য ধস এবং আকস্মিক বন্যার তথ্য দ্রুত আদান-প্রদানের ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা জরুরি। কারণ দুর্যোগ পাসপোর্ট দেখে সীমান্ত অতিক্রম করে না। শেষ কথা নেপালের এই ট্র্যাজেডিকে শুধু আরেকটি বন্যা হিসেবে দেখলে আমরা বড় ভুল করব। এটি হিমবাহ, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, বরফ-পাথরের ধস, আকস্মিক বন্যা এবং পরিবর্তিত জলবায়ুর সম্মিলিত ঝুঁকির এক ভয়াবহ উদাহরণ। মানুষ আজ মহাকাশে অভিযান চালায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করে, পাহাড়ের বুক চিরে মহাসড়ক বানায়, নদীকে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। তারপরও প্রায় ৫,২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে ১,২০০ মিটার নিচে নেমে আসার পর সৃষ্ট কয়েক মুহূর্তের তাণ্ডব ছয় শতাধিক মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে, প্রায় তিন হাজার মানুষকে নিখোঁজ করতে পারে এবং বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা অবকাঠামো নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। ২৯ আগস্টের সর্বশেষ হিসাবে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে অন্তত ৬৩৩ জন নিহত এবং ২,৯৮০ জন নিখোঁজ, আর অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি। এই বাস্তবতার সামনে মানুষের প্রযুক্তিগত অহংকার খুবই ক্ষুদ্র। সভ্যতা যত উন্নতই হোক, প্রকৃতির সামনে মানুষ শেষ পর্যন্ত প্রকৃতিরই একটি অংশ। নেপালের এই ট্র্যাজেডি সেই চিরন্তন সত্যটিই আবার নির্মমভাবে মনে করিয়ে দিল, প্রকৃতিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তথ্যসূত্র : রয়ার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), দ্য গার্ডিয়ান, লে মোনডে, আল-জাজিরা, লে মোঁদ, এবং ২৬–২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন। * লেখক : প্রদীপ্ত মোবারক, কলামিস্ট ও জনসংযোগ প্রধান,স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।
বিজ্ঞাপন









