ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে ইরান ও ইসরায়েলের পালটা পালটা হামলার মধ্যে। সর্বশেষ ইরানের হামলায় ইসরাইলের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবি করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ভূপাতিত যুদ্ধবিমানগুলোর একটি থেকে একজন নারী পাইলটকে আটক করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
তবে অস্বীকার করেছে ইসরাইল
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এসব দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি এবং কোনো সেনাসদস্য নিখোঁজ বা বন্দি হয়নি।
‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর জবাবে পাল্টা হামলা
এর আগে শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে ইসরাইল ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে ইরানের ওপর একযোগে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। এতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং সামরিক কমান্ড সেন্টার লক্ষ্যবস্তু হয়।
এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৮ জন নিহত এবং ৩২৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বহু সেনা কর্মকর্তা ও প্রযুক্তিবিদ রয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো আশঙ্কা করছে, আসল হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া: পাল্টা শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র
ইসরায়েলের হামলার জবাবে শতাধিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইরান। বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের তেল আবিব, হাইফা ও আশকেলন অঞ্চলে আঘাত হানে। এতে কমপক্ষে ৭০ জন আহত এবং ২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
‘মোসাদ এজেন্টরা ইরানেই ড্রোন ঘাঁটি স্থাপন করেছিল’
টাইমস অব ইসরাইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানের ভেতরে মোসাদের কিছু গোপন ঘাঁটি রয়েছে, যেখান থেকে ড্রোন হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও দাবি করা হয়।
আঞ্চলিক উদ্বেগ বাড়ছে
এই সংঘাত নিয়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আঙ্কারা ও রিয়াদ দ্বিপাক্ষিকভাবে উভয়পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা কাঠামোকে অভূতপূর্ব ঝুঁকির মুখে ফেলবে। একইসঙ্গে এর প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপর।
