ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী ও সাধারণ নাগরিকদের শাহাদতের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি। তিনি বলেছেন, ইহুদিবাদী সরকারের এ আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং তাদের শাসনব্যবস্থার ওপর ধ্বংস নেমে আসবে।
শুক্রবার (১৩ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ইরানি জাতির উদ্দেশে এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, “ইহুদিবাদী সরকার একটি গুরুতর ভুল করেছে। এই অপরাধের ফলভোগ করতে হবে তাদের। ইরানি জাতি শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেবে না।”
“জবাব আসবেই, দয়া দেখানো হবে না”— খামেনি
টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে তিনি আরও বলেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত। জনগণ এবং সব রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাদের পাশে রয়েছে। আমাদের জবাব শক্তিশালী হবে, কোনো প্রকার দয়া দেখানো হবে না। ইসরায়েল ভুল ভাবছে— তারা আক্রমণ করেছে আর সব শেষ হয়ে গেছে। না! যুদ্ধ এখন শুরু হয়েছে।”
তিনি বলেন, “ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী এই ঘৃণ্য, দুষ্ট ও সন্ত্রাসী ইহুদিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড আঘাত হানবে। আমরা বিজয়ী হব, ইনশাআল্লাহ।”
ইরানের পাল্টা হামলায় কেঁপে উঠলো ইসরায়েল
আয়াতুল্লাহ খামেনির ভাষণের পরপরই ইরান একের পর এক পাল্টা আঘাত হানতে শুরু করে। ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে চার দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে বহু ভবন ধ্বংস হয় এবং ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, এসব হামলায় কমপক্ষে ৭০ জন আহত এবং ২ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পটভূমি: বিমান হামলায় নিহত সেনাপ্রধানসহ ৭৮ জন
উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী তেহরানসহ ইরানের অন্তত ৮টি শহরে বড় ধরনের হামলা চালায়। এতে ৭৮ জন নিহত ও প্রায় ৩০০ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ইরানের সেনাপ্রধান মোহাম্মদ বাঘেরিসহ ২০ জন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন।
হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি। ইরান এ হামলার নাম দিয়েছে ‘দ্য রাইজিং লায়ন’, আর প্রতিরোধমূলক অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’।
