ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে পুরোপুরি ধ্বংস করার লক্ষ্যে দেশটিতে সাম্প্রতিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েশিয়েল লেইটার। তিনি বলেন, ইসরায়েল এখন ইরানের শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং এই যুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে চিরতরে বিরত রাখা।
সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেইটার বলেন, “আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যেই আমরা ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে সক্ষম হবো। এটি শুধু ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও গোটা বিশ্বের স্বার্থেই করা হচ্ছে।”
ইরান-ইসরায়েল সরাসরি সংঘাতে
গত শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী (IAF) ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৮টি শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এতে এখন পর্যন্ত ৭৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। নিহতদের মধ্যে ইরানের সেনাপ্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি ও সামরিক বাহিনীর ২০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন।
হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সামরিক স্থাপনা। এএফপি জানায়, এ হামলায় ১০০টিরও বেশি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান এই অভিযানের জবাবে তার সামরিক প্রতিক্রিয়ার নাম দিয়েছে ‘দ্য রাইজিং লায়ন’।
ইরানের জবাব: ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’
ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’ নামের পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এতে শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ইরান ইসরায়েলের দিকে ১৫০টির বেশি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই হামলায় এক ইসরায়েলি নারী নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়েছেন; এর মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইসরায়েলি দূত লেইটার জানান, ইরানের কাছে এখনও দুই হাজারের বেশি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং দেশটি পরবর্তী পর্যায়ে সেগুলো ব্যবহার করতে পারে। তবে তিনি বলেন, “আমরা এই যুদ্ধে প্রস্তুত। প্রতিটি হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।”
ইসরায়েলের অটল অবস্থান
সাক্ষাৎকারে লেইটার দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমাদের যুদ্ধ ইরানের জনগণের সঙ্গে নয়, বরং দেশটির শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী না হতে পারে। এর জন্য যেকোনো মূল্য দিতে আমরা প্রস্তুত।”
