জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় শহর হামবুর্গের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনে ব্যস্ত সময়ে ছুরি হামলায় ১৮ জন আহত হয়েছে। জার্মানির জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় ব্যস্ততম সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। খবর সাউথ চায়না মর্ণিং পোস্ট।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ১০ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। সব আহত ব্যক্তিকে আশপাশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ৩৯ বছর বয়সী এক জার্মান নারী প্ল্যাটফর্ম ১৩/১৪-তে এলোপাতাড়ি ছুরি চালানোর পর তাকে স্টেশনেই আটক করা হয়। হামলায় ব্যবহৃত ছুরিটি জব্দ করা হয়েছে
পুলিশের মুখপাত্র ফ্লোরিয়ান আবেনসেথ জানান, শনিবার ওই নারীকে আদালতে হাজির করা হবে। অভিযুক্ত এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশ হামলার বিষয়ে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই নারী একাই হামলা চালিয়েছেন এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়। আবেনসেথ বলেন, ‘আমরা এমন কিছু প্রমাণ পেয়েছি, যা ইঙ্গিত করে তিনি মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন কিনা, তা তদন্ত করছি। সন্দেহভাজন নারী গ্রেপ্তারকালে কোনো ধরনের প্রতিরোধ করেননি।’
এক বিবৃতিতে রেল অপারেটর বলেছে, ‘এই হামলার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে ব্যথিত ও বিস্মিত। আমাদের সহানুভূতি ও সমবেদনা আহতদের প্রতি। তবে যাত্রা বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আগাম সতর্কতা দেওয়া হচ্ছে।’
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্জ হামলার পর হামবুর্গের মেয়র পিটার শেন্টশারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে জানিয়েছেন সরকারি মুখপাত্র স্তেফান করনেলিয়াস।
ম্যার্জ এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লেখেন, “হামবুর্গ থেকে আসা সংবাদ হতবাক করে দেওয়ার মতো। আমি ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারের পাশে আছি। দ্রুত সহায়তা প্রদানের জন্য সকল জরুরি সেবা কর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।”
মেয়র শেন্টশার এক্স-এ লেখেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। পুলিশ ও জরুরি সেবাদাতাদের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য ধন্যবাদ। হামলাকারী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। আমি আহতদের প্রতি শুভকামনা জানাই এবং আশা করি গুরুতর আহতরা সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হামবুর্গ স্টেশনে ছুরি বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গণপরিবহনেও চালু হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে জার্মানিতে একাধিকবার জনসমাগমস্থলে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
