ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি ওই বক্তব্যকে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ ও ‘ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাহার এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে নাছির উদ্দীন নাছির এ প্রতিক্রিয়া জানান।
নাছির উদ্দীন নাছির স্টাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ব্যারিস্টার ফুয়াদদের এতো আক্রোশের কারণ কী? কারণ একটাই৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসের যে যে বাঁকে বাংলাদেশের পক্ষে অবদান রেখেছে, সেই সেই বাঁকে বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে ফুয়াদ সাহেবের পেয়ারের সংগঠন জামায়াতে ইসলামী৷
১৯৪৭-এর দেশভাগ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন- সব জায়গায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ইতিহাসের ঠিক প্রান্তে, ঠিক দিকে৷ আর ফুয়াদ সাহেবের প্রিয় জামায়াতে ইসলামী ছিল দেশ ও জনগণের বিপক্ষে, ইতিহাসের ভুল প্রান্তে৷
এই ভুলের গ্লানি ও ক্ষোভ ফুয়াদ সাহেবরা মননে লালন করেন৷
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই বক্তব্য শুধু ঔদ্ধত্যপূর্ণই নয়, পাশাপাশি ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা৷ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাসকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা করেছেন৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অবমাননাকর ও অসত্য বক্তব্যের জন্য তাকে অবশ্যই ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং অতি সত্বর এই বক্তব্য তাকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে৷
এর আগে, বুধবার (১ জুলাই) বিকাল ৩টায় ডাকসু অফিসে আয়োজিত ‘বাঙালি মুসলমানের জাগরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রাসঙ্গিকতা, শিক্ষার মান এবং শিক্ষকদের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, গত ৫০ থেকে ৭০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা দেশের লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি করেছে কিনা এবং এই বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে সচল থাকার কোনও প্রয়োজন আছে কিনা।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে ফ্যাসিস্ট ক্রিমিনাল টাউট বাটপার তৈরি করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। কালকে চোখ বন্ধ করে চিন্তা করেন তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়টা শাটডাউন করে দেওয়া হলো। দেশের কি ক্ষতি হবে?’
তিনি বলেন, ‘যারা কলকাতার দিল্লির গোলামি করে বাংলাদেশে চিন্তার দাসত্ব করে ওরা আসলে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির রাজনীতি করে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং যারা বামপন্থি আছেন– তারা কখনোই মুক্তির লড়াইতে এ দেশের সাধারণ হিন্দু, সাধারণ নমঃশূদ্র, সাধারণ সনাতনী পরিবার, সাধারণ বাঙালি মুসলমানের হয়ে লড়াইটা করে নাই। এজন্যই তাদের লড়াইটা কবরস্থ হয়ে গেছে। একদম ব্যাপকভাবে কবরস্থ হয়ে গেছে।’
‘তাই আজকে এটা আমাদের হিস্টরিক জায়গা থেকে আমাদের কানেক্ট করার যেমন জায়গা আছে, নতুন করে কিন্তু কিছু প্রশ্ন তোলার জায়গা আছে। আজকে কী কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেলেভেন্ট চিন্তা করছেন কখনও? আসলে প্রয়োজন আছে কিনা এরকম একটা বিশ্ববিদ্যালয় থাকার, সে আসলে কী পারপাস সারভ করে? সে আমাকে, রাষ্ট্রকে কী দেয় সে? যা দেয় তা দিয়ে কি আসলে রাষ্ট্র ফাংশনাল কিনা? এখানকার গ্রাজুয়েটরা কি গত ৫০-৭০ বছরে যা প্রডিউস করেছে রাষ্ট্রের লাভ বেশি হয়েছে, না ক্ষতি বেশি হয়েছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কালেক্টিভ ক্ষতির জায়গা যদি দেখেন এই সবচেয়ে বড় দায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।’
তিনি দাবি করেন, ‘এখনও শিক্ষকদের একটা বিশাল অংশ হচ্ছে এই মুসলমান নামধারী হিন্দুত্ববাদী। এই হিন্দুত্ববাদী শিক্ষকরাই বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চের জন্য বাজেট দেয় না, পরিকল্পিতভাবে দেয় না কারণ তারা এখানকার শিক্ষার্থীদেরকে গোলাম কর্মচারী হিসেবে ভবিষ্যতের জন্য প্রডিউস করতে চায়। ও দুবাই যাবে, ও সৌদি আরব যাবে, ও কাতারে গিয়ে কর্মচারীর কাজ করবে, ও যেন ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট না হতে পারে, ম্যানুফ্যাকচারার না হতে পারে, গবেষক হতে না পারে। ও যেন নোবেল পুরস্কার না আনতে পারে, ও যেন দুনিয়া বদলে দিতে না পারে। এইরকম গোলাম ছাত্রছাত্রী আমি এখান থেকে করবো, কাগজ দেবো, চোতা দেবো; কিন্তু ওই চোতার ভেতরে কোনও দক্ষতা থাকবে না, শুধু থাকবে বেকারত্বের অভিশাপ।
‘পরিকল্পিতভাবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এই হিন্দুত্ববাদী শিক্ষকরা। যাদের আপাদমস্তক চরিত্র হচ্ছে এককটা হেমন্ত এবং শুভেন্দ্র অধিকারী। যাদের ইতিহাসের সঙ্গে কোনও কানেকশন নাই, যারা আসলে ইতিহাসের এই লড়াইটা বোঝে না যে, বিশ্ববিদ্যালয়টা আসলে কিসের লড়াই।’
