ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে ‘মব’ করতেও প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সিন্ডিকেট সভা চলার সময় মিটিং রুমের ভেতরে উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতাদের মধ্যে তীব্র তর্কবিতর্ক শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবারের বাসসেবা চালুর দাবিকে কেন্দ্র করে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। পরে শুক্রবার (৮ মে) ভোরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টেও তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা অভিযোগ করেন, ডাকসুকে ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি জানান, সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি নিয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলেছেন।
তার ভাষায়, “এক অফিস থেকে আরেক অফিসে দৌড়াতে হয়, কিন্তু কাজ এগোয় না। আমরা ডাকসু থেকে কোনো বেতন নিই না, শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করছি।”
সর্বমিত্র দাবি করেন, তাদের চলমান আন্দোলনের পেছনে হাজারো শিক্ষার্থীর সমর্থন রয়েছে। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাদের আন্দোলনকে ‘মব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর জবাবে তিনি উপাচার্যকে বলেছেন, “শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ও অধিকার আদায়ে যদি মব করতে হয়, তাহলে আমরা সেটাও করতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন কাজ আটকে রাখছে। এমনকি ডাকসুর তহবিল থাকলেও নানা অজুহাতে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে ডাকসু নেতাদেরই।
সর্বমিত্র চাকমার মতে, নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেও শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় সম্ভব হচ্ছে না। বরং আদর্শিক দ্বন্দ্বের কারণে ডাকসুকে অকার্যকর করার চেষ্টা চলছে, যার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে।

