জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সংসদে মন্ত্রীদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আমার।
রোববার (৩১ মে) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. তাহের বলেন, ‘আমি কিন্তু একজন এমপি না, আমি কিন্তু প্রতিমন্ত্রী। অফিসিয়ালি আমি প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী হলেও পার্লামেন্টের লিডার অব দ্য অপোজিশন, আর রিপোর্টিং অব দ্য অপোজিশন মন্ত্রীদের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পার্লামেন্টে দেখবেন আমি সেখানে প্রত্যেকদিন দুইবার কথা বলব। আর মন্ত্রীরা মাসে একবার কথা বলবে।’
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তিনি দাবি করেন, তাদের জোট জনপ্রিয়তার বিচারে সরকারি দলের খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তার মতে, আসনসংখ্যার চেয়ে ভোটের হারই জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন। তিনি বলেন, এবার জামায়াতে ইসলামী যে পরিমাণ ভোট পেয়েছে, অতীতে সেই ধরনের ভোট পেয়েই বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে। তাই ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনাময় দল হিসেবে তিনি জামায়াতকে উল্লেখ করেন।
তাহের আরও বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসাবে আমার স্টাটাস হলো প্রতিমন্ত্রী। আমার গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকে, পতাকা তো মন্ত্রীরাই পায়। সঠিক ভোট হলে আমার সিনিয়র মন্ত্রী হওয়ার কথা ছিল।
তাহের প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সবে সরকারের তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে। যদি বিএনপি পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে যায়, টিকবে কি না?’ ডাক্তার তাহেরের এমন প্রশ্নে দর্শক সারিতে নেতা-কর্মীরা বলেন, টিকবে না। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু কিছু বলি নাই। আমরা চাই তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় থাকুক। তারা ক্ষমতায় থাকলে এলাকার বরাদ্দ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।’
স্থানীয় সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ দুটি অপরাধ দমনে তিনি ছয় মাসের সময়সীমা ঘোষণা করেন। এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এসব কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
ডা. তাহের জানান, ভালো মানুষের সংখ্যা অপরাধীদের তুলনায় অনেক বেশি। সমাজের সাধারণ মানুষ এগিয়ে এলে কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসা নির্মূলে সফল হওয়া সম্ভব।
