ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মুন্সীরহাট এলাকায় ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে এক ব্যতিক্রমী ও হৃদয়ছোঁয়া ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়ক দুর্ঘটনায় একটি ভেড়ার মৃত্যু হলে তাকে ঘিরে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকে পুরো ভেড়ার পাল। ঘটনাটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পথচারী ও আশপাশের মানুষজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো খামারি মো. ফরিদের ভেড়ার পালটি চারণভূমির উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল। মুন্সীরহাট এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত যান একটি ভেড়াকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই সেটির মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর সাধারণত প্রাণীরা আতঙ্কে ছুটে পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। মৃত ভেড়াটিকে ঘিরে ডিভাইডারের ওপর জড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বাকি ভেড়াগুলো। তারা কেউ সেখান থেকে সরে যায়নি কিংবা সামনে এগোয়নি। প্রায় দেড় ঘণ্টা একই জায়গায় অবস্থান করে তারা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় দোকানি মো. মোস্তাক আলী বলেন, “আমি ভেবেছিলাম বাকি ভেড়াগুলো ভয় পেয়ে পালিয়ে যাবে। কিন্তু তারা মৃত সঙ্গীর পাশ ছেড়ে যায়নি। দৃশ্যটা খুবই আবেগের ছিল।”
পথচারী সুজন মিয়া জানান, সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কয়েকজন মিলে ভেড়াগুলোকে সরানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা কিছুতেই নড়ছিল না। পরে ভেড়ার মালিক এসে মৃত প্রাণীটিকে সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে বাকিরাও রাস্তা ছাড়ে।
ভেড়ার মালিক মো. ফরিদ বলেন, “ভেড়ারা সবসময় দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। তাদের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক বন্ধন কাজ করে। এ ঘটনায় সেটাই আবারও প্রমাণ হয়েছে।”
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও প্রাণীবিদ ডালিম কুমার রয় বলেন, দলবদ্ধ প্রাণীদের মধ্যে সঙ্গী হারানোর পর শোক বা মানসিক ধাক্কার আচরণ দেখা যায়। ভেড়ার ক্ষেত্রেও ‘হার্ড মেন্টালিটি’ বা দলগত প্রবণতা অত্যন্ত শক্তিশালী। বিপদের সময় তারা বিচ্ছিন্ন না হয়ে বরং একত্রে অবস্থান করে।
তিনি জানান, হাতি, শিম্পাঞ্জি, কুকুর কিংবা তিমির মতো অনেক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যেই শোক প্রকাশের আচরণ দেখা যায়। মুন্সীরহাটের ঘটনাটিও প্রাণীদের সেই সামাজিক ও আবেগগত সম্পর্কের একটি বাস্তব উদাহরণ।
