
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একদিকে মায়েদের গায়ে হাত তোলা হচ্ছে, আর অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলা হচ্ছে—এই ভণ্ডামি দেশের মানুষ আর মেনে নেবে না। তিনি বলেন, “রাখ তোদের ফ্যামিলি কার্ড। চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ আর যারা নারীদের সম্মানহানি করেছে—দেশের মানুষ তাদেরই রুখে দেবে।”
সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীতে জামায়াত আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জামায়াতের পক্ষে গণজোয়ার দেখে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এখন আবার বেকার ভাতার কথা বলে যুবসমাজকে খাটো করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “আমরা যুবকদের অপমান করতে চাই না। তাদের কর্মসংস্থান দিতে চাই। অতীতের মতো কৌশলে জাতিকে বিভক্ত করার রাজনীতিও আমরা করব না।”
তিনি আরও বলেন, এতদিন যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বলেনি, এখন পরিস্থিতির চাপে তারাও সেই কথা বলতে শুরু করেছে। তবে তিনি প্রশ্ন রাখেন—তাদের কথার সঙ্গে কাজের মিল হবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
সমাবেশে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’-এর পরিবর্তে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন জামায়াত আমির। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ স্লোগানে পুরো সমাবেশ প্রকম্পিত করে তোলেন।
এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে চারটায় সীতাকুণ্ডের ঐতিহাসিক সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ ১১ দলীয় জোটকে ভোট দেবে। আর তার পরদিনই জনগণ চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ দেখবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। গোটা বাংলাদেশ এখন চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। আধিপত্যবাদের গোলামির রাজনীতি আর এ দেশে চলবে না।
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ দেখা গেছে, তারই প্রতিফলন ঘটবে ভোটের দিন। যারা মা-বোনদের অপমান করেছে, তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে জনগণ।
নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা মায়ের জাতি, শ্রেষ্ঠ জাতি। আপনাদের ঋণ কোনোদিন শোধ করা সম্ভব নয়। আমরা আপনাদের সম্মানের আসনে রাখতে চাই, মাথার মুকুট বানাতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, আগে একসময় শোনা যেত—“আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব।” সেই সময় শেষ। এখন সময় এসেছে—“আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোট তুমি দেবে।” ১২ ফেব্রুয়ারি কেউ ভোটাধিকার কেড়ে নিতে এলে জনগণ তা প্রতিহত করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় জোটের আন্দোলন চলবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সারা দেশে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জনগণের স্পষ্ট বার্তা।
