ছবি: সংগৃহীত
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হয়, যার সমাপ্তি ঘটে ৫ আগস্ট—যা এখন ‘৩৬ জুলাই’ নামে পরিচিত। এই দিনটিকে স্মরণে রাখতে আয়োজিত হয় ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ অনুষ্ঠান। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমাগম শুরু হয়।
এদিন সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অতিথিদের জন্য নির্ধারিত স্থানে একে একে উপস্থিত হতে থাকেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।
আলোচনার চেয়ে দৃশ্যটি হয়ে ওঠে সম্প্রীতির প্রতীক। একে অপরের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল কোলাকুলি, হাত মেলানো এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ কথোপকথনের মুহূর্ত ধরা পড়ে একটি ভিডিওতে, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ও শিবিরের প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম কোলাকুলি করছেন, নাছির হাত মেলান শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তাদের মাঝে রসিকতা করছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, যার পর সবাই একসঙ্গে হাসিতে মেতে ওঠেন।
পরবর্তীতে শিবির সভাপতি রাকিবকে বসার আমন্ত্রণ জানান এবং পাল্টা রাকিবও তাকে বসতে বলেন। এরপর নাছির জাহিদুল ইসলামকে চেয়ারে বসিয়ে নিজেও আসন গ্রহণ করেন।
এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা বিভিন্ন মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন।
আব্দুল মান্নান নামে একজন মন্তব্য করেন, “এমন একটা রাজনৈতিক পরিবেশ দেখতে চায় জনগণ। দেশের কল্যাণে গঠনমূলক সমালোচনা হোক, বিভেদ নয়। ইনশাআল্লাহ, আপনারা একত্রে থাকলে দেশ ও জনগণ ভালো থাকবে।”
জুয়েল চৌধুরি লিখেছেন, “যে যেকোনো দল করতে পারে, কিন্তু একসাথে থাকাটাই জরুরি।”
আব্দুল মালেক নামে একজন লেখেন, “এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ সহঅবস্থানের রাজনীতিই আমরা চাই।”
এই ঘটনাটি রাজনৈতিক বিভাজনের দীর্ঘ ইতিহাসের পর এক নতুন আশাবাদের বার্তা দেয় বলে মনে করছেন অনেকেই।
