দেশের মানুষ আর কথামালার রাজনীতি চায় না, তারা চায় প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণ এখন স্বপ্ন বা প্রতিশ্রুতির গল্প নয়, বাস্তবায়ন চায়। বিএনপি সেই বাস্তবায়নের রাজনীতিতেই অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, “একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যেমন আমি বুঝি, তেমনি দেশের মানুষও বুঝতে পেরেছে—এখন প্রয়োজন বাস্তব পরিবর্তন। বিএনপি সেই লক্ষ্যেই রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়ন করছে। দেশের ভেতর-বাইরের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করে আমরা এগিয়ে চলেছি।”
‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কথা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী যুবদল।
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের রাজনীতির আগামী দিনের মূল নীতি হবে মানুষের জীবনের উন্নয়ন। দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে অন্যতম অগ্রাধিকার।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক শক্তির উৎস। তাদের রায়ের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হবে। তবে জনগণের কাছে আমাদের পরিকল্পনা পৌঁছে দিতে হবে। যারা শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাস করেন এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নেতা মানেন, তাদের সবার দায়িত্ব এই পরিকল্পনা মানুষের সামনে তুলে ধরা।”
তারেক রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা যদি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেন, তবেই আপনি নেতা। জনগণের প্রত্যাখ্যানের পর আপনি নেতা নন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুবদলের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের মুখেও রাজপথে ছিলেন। শুধু জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানেই ৭৮ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন।”
তিনি বলেন, “পলাতক স্বৈরশাসকের প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যুবদলকে রাজপথ থেকে সরাতে পারেনি। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, জনগণের আস্থায় থাকুন এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখুন।”
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন যুবদলের সভাপতি এম আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেহেদি আমিন, মানবাধিকারকর্মী সাইয়েদ আবদুল্লাহ, এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরাও বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাবেক নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বরকত উল্লাহ বুলু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাইফুল আলম নিরব ও সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।
