গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে হামলার প্রতিবাদে নীলফামারীর সৈয়দপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের চার উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে দেয় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা।
বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা রংপুর থেকে ঢাকাগামী উপদেষ্টাদের বহর থামিয়ে দেন।
আটকে পড়া উপদেষ্টারা হলেন—পানিসম্পদ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. রফিকুল আবরার এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।
গাড়ি থেকে নামার পর সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও ড. আসিফ নজরুলকে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রশ্নের মুখোমুখি করেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, “প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
পরে উপদেষ্টারা বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করেন যে গোপালগঞ্জের ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর তারা বিমানবন্দরের দিকে রওনা দেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “গোপালগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে যারা জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, “প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। দেশের যেকোনো দলের ওপর এমন সন্ত্রাসী হামলা মেনে নেওয়া হবে না।”
এ সময় ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা মব সৃষ্টির বিরুদ্ধে। তবে সত্যি কথা হলো, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে নিজের অনুগতদের বসিয়েছেন। এই ব্যবস্থাকে ভেঙে নতুনভাবে গঠন করতে সময় লাগছে। পুলিশকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা চলছে। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকেই আস্তে আস্তে পুনর্গঠন করতে হচ্ছে।”
