নাটোরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মরিচের গুঁড়া মেশানো গরম পানি দিয়ে ঝলসে দেওয়া গৃহবধূ শাহানাজ বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নির্দেশে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সেনাবাহিনীর একটি মেডিকেল দল তাঁকে সিএমএইচে নিয়ে যায়।
শাহানাজ বেগম নাটোর সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বাবু মিয়ার স্ত্রী। গত ২৬ জুন জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশী সুলতান, সাইফুল, লাল চান ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা শাহানাজ বেগমসহ দুই নারীকে মরিচের গুঁড়া মেশানো গরম পানি ছুড়ে ঝলসে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালায় এবং ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। নাটোর সদর থানায় ওইদিনই একটি মামলা দায়ের করা হলে গ্রেপ্তারকৃতদের সে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, শাহানাজের চিকিৎসায় এরইমধ্যে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে তিনি এখনও সুস্থ নন এবং পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না।
শাহানাজ বেগমের ছেলে শাহেদ আলম বলেন, “আমার চাচা ও তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে মাকে নির্যাতন করে। এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রথমে রাজশাহীতে, পরে ঢাকায় চিকিৎসা করাই। পরে সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ জানালে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং এখন মায়ের চিকিৎসার দায়িত্বও নিয়েছে। আমরা সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ।”
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান বলেন, “ঘটনার দিনই শাহানাজের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।”
গুরুতর আহত শাহানাজ বেগম বর্তমানে সেনা পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর সুস্থতার জন্য উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সিএমএইচ কর্তৃপক্ষ।
