চাঁদাবাজি ও মব ভায়োলেন্স প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। মব ভায়োলেন্স ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যত বড় চাঁদাবাজই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, জনগণ সচেতন হলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব।
মাদকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শুধু বাহকদের নয়, গডফাদারদেরও ধরতে হবে। মাদক শুধু ব্যবহারকারীর নয়, গোটা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানসিকতার পরিবর্তন এনে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, কক্সবাজারের ওপর দিয়েই মাদক প্রবেশ করছে। তাই প্রতিটি নাগরিককে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
রোহিঙ্গা শিবির সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্যাম্পগুলো এখন মাদক, অস্ত্র ও অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা এখন একটি বিষফোড়ায় রূপ নিয়েছে। যদিও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তারপরও ক্যাম্পে অপরাধ কর্মকাণ্ড সরকারকে ভাবাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে একজন উপদেষ্টা কাজ করছেন, যিনি এর উত্তরণের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
এ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম বীরপ্রতীক, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজসহ সরকারের বিভিন্ন বাহিনী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভা শুরুর আগে কক্সবাজারের বিজয় সরণি সড়কের হোটেল শৈবাল সংলগ্ন স্থানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই বর্তমান বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। তাদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে কেবল একটি দিনেই নয়, প্রতিনিয়ত স্মরণ করা উচিত। সেই আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই নির্মাণ হচ্ছে স্মৃতিস্তম্ভটি। তিনি আরও জানান, জুলাই আন্দোলনে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যদিও তাদের অবদান অর্থমূল্যে পূরণ করা সম্ভব নয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, পূর্ত মন্ত্রণালয় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে এবং জেলা প্রশাসন ও পূর্ত বিভাগ যৌথভাবে এর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালনা করছে।
