ছবি: সংগৃহীত
তুরস্ক, ইসরাইল ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক ভূমিকায় না গিয়ে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় মনোযোগ দিচ্ছে—এমন মন্তব্য করেছেন সোশ্যাল সাইন্স ইউনিভার্সিটি অব আঙ্কারার আমেরিকান স্টাডিজ বিভাগের চেয়ার ও সহকারী অধ্যাপক বারিন কায়াআওলু। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তুরস্ক ও ইরানের সম্পর্ক ‘ফ্রেনেমি’ ধরনের—যেখানে বন্ধুত্ব ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা একসঙ্গে বিরাজ করছে।
ইতিহাসের ধারায় বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক প্রশ্নে তেহরান ও আঙ্কারা বরাবরই বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর এই দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। কায়াআওলুর ভাষায়, “ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ এক মিত্রকে হারিয়েছে, বিপরীতে সিরিয়ার ক্ষমতায় এসেছে তুরস্কঘনিষ্ঠ একটি গোষ্ঠী—এটি তেহরানের জন্য বড় ধাক্কা।”
তিনি বলেন, তুরস্ক সরাসরি ইরানের পক্ষে সামরিক সহায়তা না দিলেও আঙ্কারা ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করে যাচ্ছে। এরদোয়ান সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে।
তবে আঙ্কারার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ইসরায়েলি হামলার পরিণতিকে ঘিরে। কায়াআওলুর মতে, “তেহরানে যদি সহিংসভাবে সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে, তাহলে তা তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হবে। এতে সীমান্তজুড়ে শরণার্থী সঙ্কট, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে।”
তার ব্যাখ্যায়, তুরস্ক চায় না ইরানে অস্থিতিশীলতা তৈরি হোক বা এমন কোনো সংঘর্ষাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হোক যা আঙ্কারার কৌশলগত প্রভাবের বাইরে চলে যায়।
সার্বিকভাবে, আঙ্কারার অবস্থান জটিল এক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশলের অংশ—যেখানে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, কিন্তু ইরানের সামরিক সহায়তায় প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হচ্ছে না; একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা রোধে সতর্ক দৃষ্টিপাত করছে।
