ইরানের পাল্টা আকাশপথে হামলার মুখে ইসরায়েলিরা কতটা সুরক্ষিত—এই প্রশ্নে আল-জাজিরার কাছে মত দিয়েছেন ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ-এর বিশ্লেষক গিদেওন লেভি।
তিনি জানান, বেশিরভাগ ইসরায়েলি নাগরিক এসব হামলার বিরুদ্ধে “খুব ভালোভাবে সুরক্ষিত” থাকলেও, এই নিরাপত্তা সবার জন্য সমান নয়।
লেভি বলেন, “যতদিন এই ধরনের হামলা চলবে, শুধু ভয়ের অনুভূতি নয়, ইসরায়েলিরা একসময় প্রশ্ন তুলবে—এই যুদ্ধের শেষ কোথায়? এক যুদ্ধ থেকে আরেক যুদ্ধ, এক গোলাবর্ষণ থেকে অন্য গোলাবর্ষণ—আমরা কোথায় যাচ্ছি?”
সম্প্রতি ইসরায়েলের চালানো হামলায় ইরানে অন্তত ২২৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ২০ জন ইরানি ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন। পাল্টা হামলায় ইরানের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে, যাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি নাগরিকদের সুরক্ষার প্রসঙ্গে গিদেওন লেভি বলেন, দেশটির ‘অ্যালার্ম সিস্টেম’ বেশ কার্যকরভাবে কাজ করছে। আকাশপথে হামলার আগেই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সতর্কতা পাঠানো হয়, এরপর নির্দিষ্ট এলাকায় ‘সাইরেন’ বাজিয়ে মানুষকে আশ্রয় নিতে বলা হয়।
তিনি আরও জানান, তেল আবিবসহ অনেক এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। নতুন ভবনগুলোর প্রতিটিতে থাকে নিরাপদ কক্ষ। এসব ব্যবস্থা সাধারণ ইসরায়েলিদের তুলনামূলকভাবে সুরক্ষা দেয়।
তবে সবাই এই সুবিধা পান না। লেভি বলেন, বেদুইন জনগোষ্ঠী ও ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা নিরাপদ আশ্রয়ের সুবিধা থেকে অনেকাংশে বঞ্চিত। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ইসরায়েলের উত্তরের আরব শহর তামরায় প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের বসবাস। সম্প্রতি এক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে শহরটিতে চারজন নিহত হন। সেখানে কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নেই। অথচ পাশের একটি মাত্র এক হাজার জনসংখ্যার ইহুদি গ্রামে একাধিক সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গিদেওন লেভির অভিমত—“এই যুদ্ধ গাজা বা লেবাননের মতো নয়। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বেসামরিক জনগণের ক্ষয়ক্ষতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হতে পারে। ফলে কয়েকদিন হয়তো সহ্য করা সম্ভব, তবে দীর্ঘমেয়াদে নয়।”
