ছবি: সংগৃহীত
গতকাল শুক্রবার ভোরে ইরানের ওপর ব্যাপক আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে ধ্বংস হয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, বিশেষ করে নাতাঞ্জের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। তবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি, বরং দেশটির সবচেয়ে সম্ভাব্য ইউরেনিয়াম মজুতস্থল ইচ্ছাকৃতভাবে হামলার বাইরে রাখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, ইসরায়েলি হামলায় নাতাঞ্জের ইউরেনিয়াম উৎপাদন কেন্দ্র ও একটি বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও পারমাণবিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
ইস্পাহান মজুতস্থল রহস্যজনকভাবে অক্ষত
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই অপারেশনে ইরানের সবচেয়ে বিপজ্জনক পারমাণবিক উপাদান— অস্ত্র তৈরির মতো উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এড়ানো হয়েছে। এই মজুত ইস্পাহানের বাইরে একটি বিশাল স্থাপনায় রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-র প্রধান রাফায়েল গ্রসি বলেন, “আমরা সম্প্রতি ইস্পাহানে জ্বালানির উপস্থিতি নিশ্চিত করেছি।” তা সত্ত্বেও ইসরায়েল সেখানে হামলা চালায়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “ইরান নয়টি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট ইউরেনিয়াম প্রস্তুত করেছে। এই মজুত এখন সবচেয়ে বড় হুমকি।”
কেন ইসরায়েল এই মজুতকে লক্ষ্য করেনি, সেই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব এখনো মেলেনি। ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস-এর জন উলফস্টাল বলেন, “হয়তো নেতানিয়াহু তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়া নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন, নয়তো ইরানকে কৌশলগত চাপ দিয়ে নিজেরাই জ্বালানি ত্যাগে বাধ্য করতে চাইছেন।”
তেজস্ক্রিয়তা ও অতীতের অভিজ্ঞতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের ওপর হামলা পরিবেশে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে দিতে পারে, যা একটি মানবিক ও কূটনৈতিক সংকট তৈরি করবে। ইতিহাস বলছে, ১৯৮১ সালে ইরাকের ওসিরাক চুল্লি এবং ২০০৭ সালে সিরিয়ায় উত্তর কোরিয়া নির্মিত প্ল্যান্টে হামলার সময়ও ইসরায়েল জ্বালানি ব্যবহারের আগেই হামলা চালিয়েছিল।
ইরান বিকল্প প্রস্তুত রেখেছে
নাতাঞ্জ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরান বিকল্প হিসেবে ফোরদো কেন্দ্র ব্যবহার করতে পারে। এটি একটি পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত এবং বাংকার-ব্লাস্টার বোমা দিয়েও ধ্বংস করা কঠিন। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি হামলায় যুক্ত না হয়, তাহলে ইসরায়েল তাদের উন্নত বোমাগুলো ব্যবহার করতে পারবে না।
পরবর্তী হামলার ইঙ্গিত
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী শুক্রবার বিকেলে দাবি করে, তারা দ্বিতীয় দফা হামলায় ইস্পাহানে ইউরেনিয়াম ধাতু প্রক্রিয়াকরণ ল্যাবগুলোর ওপর আঘাত হেনেছে। তবে মজুতস্থলে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, “আরও অনেক কিছু আসছে। পরবর্তী হামলা হবে নিষ্ঠুর।” ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখনো পুরো পরিকল্পনার সব অংশ প্রকাশ করেননি, তবে ইস্পাহান কমপ্লেক্স পরবর্তী ধাপে হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
