ভারতের আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে সাবেক গুজরাট মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণীর সম্ভাব্য প্রাণনাশের শঙ্কা। বৃহস্পতিবার লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর জানা গেছে, যাত্রীদের তালিকায় ছিলেন বিজেপি নেতা রূপাণী।
তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রশান্ত ভালা সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি নিজেই বিজয় রূপাণীকে আহমেদাবাদ বিমানবন্দরে পৌঁছে দেন। এমনকি বিমানে ওঠার আগে যাত্রীদের নিয়ে যাওয়ার বাসেও তিনি উঠেছিলেন। এরপরই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
উল্লেখ্য, বিজয় রূপাণী ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজকোট পশ্চিম কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত একাধিকবারের বিধায়ক। এই ঘটনার পর বিজেপির কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিন দুপুরে ২৪২ আরোহী নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটটি আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
ডিজিসিএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানে ছিলেন ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, একজন কানাডীয় এবং সাতজন পর্তুগিজ নাগরিক।
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে কারা বেঁচে আছেন বা নিখোঁজ, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিজয় রূপাণীর খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। তাঁর অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ শীর্ষ নেতারা টুইট বার্তায় শোক প্রকাশ করেন এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদারের নির্দেশ দেন।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে DGCA ও বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB)
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ২৪২ আরোহী নিয়ে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এআই১৭১ নম্বর ফ্লাইটটি বোয়িংয়ের ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার মডেলের উড়োজাহাজ। এটি আহমেদাবাদ থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। উড্ডয়নের কিছু সময় পরই স্থানীয় সময় দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে ফ্লাইটটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (DGCA) নিশ্চিত করেছে, বিমানটিতে ২৩২ জন যাত্রী ও ১০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। পাইলট হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়াল এবং ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্দর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানটি আকাশে উঠেই অস্বাভাবিক শব্দ করতে থাকে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে নিচে নেমে আসে। এরপর বিকট শব্দে আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয় এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলি আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনাস্থলে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা চলছে। দমকল বাহিনী, এনডিআরএফ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। এখনো হতাহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রাণহানির সংখ্যা অনেক হতে পারে।
বিমান বিধ্বস্তের কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে DGCA ও এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)।
এ দুর্ঘটনা ভারতের সাম্প্রতিক বিমান ইতিহাসে অন্যতম বড় দুর্ঘটনা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে ভারতীয় বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার নির্দেশ দিয়েছেন।
