গাজা উপত্যকায় বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। গাজা সিটির আল আহলি আরব হাসপাতালে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে সাংবাদিকরা একটি অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূর্যের প্রচণ্ড তাপ থেকে বাঁচতে সাংবাদিকরা হাসপাতালের এক কোণে তাঁবু স্থাপন করেছিলেন। সেই তাঁবুতেই ইসরাইলি ড্রোন থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তিনজন সাংবাদিক নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, যাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ওষুধ ও সরঞ্জাম না থাকা সত্ত্বেও তারা জীবন বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আহতদের শরীরে শার্পনেলের আঘাতে গভীর ক্ষত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক সময়ের সবুজ বাগানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল নিহতদের দেহাবশেষ।
হাসপাতালেই টানা ৮ম হামলায়, অ্যাংলিকান গির্জা পরিচালিত আল আহলি হাসপাতালটিতে এটি নিয়ে অষ্টমবারের মতো ইসরাইলি হামলা চালানো হলো। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এটি যুদ্ধাপরাধের শামিল।
এ হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি সামরিক বাহিনী কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। তবে একইদিনে তারা দাবি করেছে, গাজা থেকে ইসরাইলি-আমেরিকান দুই জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করেছে, যাঁরা ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় নিহত হয়েছিলেন।
ইসরাইলি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গাজায় এখনও ৫৬ জন জিম্মি অবস্থান করছেন, যাদের মধ্যে অর্ধেকেরও কম জীবিত আছেন বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।
ইসরাইল-সমর্থিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনজিও গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) দ্বিতীয় দিনের মতো তাদের ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার কারণে বিতরণ কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কবে আবার চালু হবে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি।
খান ইউনিস এলাকার এক বাসিন্দা রয়টার্সকে বলেন, “রাফাহ অঞ্চলের কেন্দ্রটিও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চালু হয়নি। এ অবস্থায় খাদ্য সংকটে পড়েছি।”
গাজার পরিস্থিতি ক্রমেই মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হচ্ছে। একদিকে বেসামরিক নাগরিক ও সাংবাদিকদের টার্গেট করে হামলা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তা বন্ধ হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে গাজাবাসী।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আল আহলি হাসপাতালের মতো জায়গায় বারবার হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরবতা এই বর্বরতার অবসান ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
