প্রায় ৫৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকা লালমনিরহাট বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগে উদ্বিগ্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। চীনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা ঘিরে বিষয়টিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করছে দেশটি। তবে বাংলাদেশ বলছে, জাতীয় প্রয়োজনে এ অবকাঠামো সচল করা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, লালমনিরহাট বিমানবন্দর ভারতের সীমানার মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত (যদিও মানচিত্র অনুযায়ী শিলিগুড়ির ‘চিকেন নেক’ থেকে প্রকৃত দূরত্ব প্রায় ১৬০ কিলোমিটার)। এই ভৌগোলিক নিকটতা ভারতকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
ভারতের সিকিম, ত্রিপুরা ও অন্যান্য উত্তর-পূর্ব রাজ্যের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগস্থল সিলিগুড়ি করিডোর, যেটিকে কৌশলগতভাবে ‘চিকেন নেক’ বলা হয়। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত সংবেদনশীল। এনডিটিভি দাবি করেছে, চীন যদি লালমনিরহাট বিমানবন্দরের সংস্কারে সহায়তা করে, তবে সেখানে ফাইটার জেট, রাডার ও নজরদারি প্রযুক্তি বসানো হতে পারে।
এ কারণে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারত ত্রিপুরার কাইলাশহর বিমানবন্দর সংস্কার কাজ শুরু করেছে, যেটি ১৯৯০ দশক থেকে বন্ধ ছিল। যুদ্ধকালীন সময়েও ব্যবহৃত এই বিমানবন্দরকে সামরিকভাবে প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা করছে ভারত।
এনডিটিভি আরও বলেছে, বাংলাদেশে সম্প্রতি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং নতুন সরকার চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী। এ প্রেক্ষাপটে চীনের সহযোগিতায় বাংলাদেশের অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনায় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (২৬ মে) বিকেলে সেনাসদরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশনস অধিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উল-দৌলা জানান, “দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ছে, সে অনুযায়ী আমাদের প্রয়োজনও বাড়ছে। লালমনিরহাট বিমানবন্দর একটি জাতীয় সম্পদ, এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে এটি পুনরায় সচল করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, বিমানবন্দরটির পরিধি ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে এবং সেখানে নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরের নিকটেই একটি এরোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে, যার প্রয়োজনে এই অবকাঠামো ব্যবহার হবে।
বাংলাদেশ সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চীনের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে সেনাবাহিনী বারবার বলছে, এটি জাতীয় প্রয়োজনে গৃহীত একটি উদ্যোগ এবং এর মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
