বাংলাদেশকে উদ্দেশ করে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ভারতের আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা । তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের ভেতরে রয়েছে দুটি সংকীর্ণ ভৌগোলিক করিডোর, যেগুলো ভারতের বহুল আলোচিত শিলিগুড়ি করিডোরের চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি বলেন, এসব করিডোর বিঘ্নিত হলে রংপুর এবং চট্টগ্রাম বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
রোববার (১৯ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)–এ একটি মানচিত্র প্রকাশ করে হিমন্ত এই মন্তব্য করেন। এনডিটিভি-র খবরে বলা হয়, ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর নিয়ে যে বক্তব্য বা হুমকি মাঝে মাঝে উঠে আসে, তার জবাবে শর্মা এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মধ্যেও রয়েছে এমন করিডোর, যেগুলো সহজেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। উত্তর করিডোর (রংপুর করিডোর)
হিমন্তের মতে, এই করিডোরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার, যা ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর অঞ্চল থেকে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গারো পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত। তাঁর ভাষায়, এই পথ ক্ষতিগ্রস্ত হলে রংপুর কার্যত বাকী দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
চট্টগ্রাম করিডোরটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক ২৮ কিলোমিটার, যা চট্টগ্রামকে ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত করে রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করে। এই পথ বিঘ্নিত হলে তা দেশের কেন্দ্রীয় কাঠামোতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, ভারতের নিজস্ব শিলিগুড়ি করিডোরকে বলা হয় ‘চিকেনস নেক’। এটি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি অঞ্চলে অবস্থিত, প্রস্থ মাত্র ২০ কিলোমিটার। এই করিডোর দিয়েই ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে রেল ও সড়কপথে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। করিডোরটির উত্তরে রয়েছে নেপাল ও ভুটান এবং দক্ষিণে রয়েছে বাংলাদেশ।
আসাম মুখ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্য দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা তৈরি করেছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের একটি প্রাদেশিক নেতার এ ধরনের বক্তব্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্বাভাবিকতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
