গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলায় পৃথক পাঁচটি সড়ক দুর্ঘটনায় একই দিনে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী, এক শিশু, সিএনজি চালক, তিনজন ইজিবাইক যাত্রী ও এক পথচারী। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে। ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া গার্মেন্টসকর্মী আনোয়ার হোসেন ও শারমিন খাতুন দম্পতি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চাঁপড়ীগঞ্জ এলাকায় রোড ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং চাঁপড়ীগঞ্জ এলাকার অপরিকল্পিত রাবার ডিভাইডার অপসারণের দাবি জানান। প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের চারমাথা এলাকায় বাসের ধাক্কায় নিহত হন ৬০ বছর বয়সী রইচ উদ্দিন। তিনি পেশায় গাড়ির চেইন মাস্টার ছিলেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
একইদিন দুপুর ৩টার দিকে, গোবিন্দগঞ্জের বাগদা কলোনী এলাকায় ট্রাকচাপায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে চালকসহ এক শিশু নিহত হয়। আহত হন শিশুটির বাবা-মাসহ চারজন। তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
বিকেল ৪টার দিকে, পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বাজারে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় তিনজন ইজিবাইক যাত্রী নিহত হন। আহত হন আরও দু’জন।
নিহতরা হলেন—খামার নড়াইল গ্রামের গনি মিয়া (৪০), লিয়াকত (১৮) ও ইবনুল (১৮)। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সড়ক দুর্ঘটনায় একদিনে পাঁচজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, “প্রতিটি ঘটনায় গাড়ি জব্দ ও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “বাসটি স্থানীয়রা আটক করে আমাদের হেফাজতে দিয়েছেন। নিহতদের মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
