ঢাকা, ২১ জুলাই:
সোমবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান প্রতিষ্ঠানটির জুনিয়র সেকশনের একটি ভবনে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই বিকট বিস্ফোরণ ও আগুনে রূপ নেয় চরম আতঙ্কে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ক্যাম্পাসের মোট ১১টি ভবনের মধ্যে ৪-৫টি ভবনে জুনিয়র সেকশনের ক্লাস চলছিল। দুপুরে ছুটির কিছুক্ষণ আগে ওই প্রশিক্ষণ বিমানটি দুইতলা ভবনের নিচতলায় আঘাত হানে। তাতেই বিমানটির ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দুইতলায়।
এক শিক্ষার্থী, যিনি বিএনসিসির সদস্য, কাঁদতে কাঁদতে বলেন,
“চোখের সামনে সব দেখেছি ভাই, নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছি না। আর একটু পরেই ছুটি হতো…”
ঘটনার পরে চারপাশে হাহাকার
বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় চরম আতঙ্ক। শুরু হয় ছোটাছুটি, চিৎকার ও আহাজারি। আগুনের তীব্রতায় প্রথমদিকে কেউ ভবনের কাছে যেতে পারেননি। এরপর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা অভিযান শুরু করেন।
দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতরদের হেলিকপ্টারেও স্থানান্তর করা হয়।
নিহত ২০, আহত ১৭১
আইএসপিআর জানায়, বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামসহ এ পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত ও দগ্ধ অবস্থায় ১৭১ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
মরদেহ হস্তান্তরে ডিএনএ পরীক্ষা
আইডেন্টিফিকেশন নিশ্চিত না হওয়া মরদেহগুলোর ক্ষেত্রে ডিএনএ স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, যত দ্রুত সম্ভব মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তদন্ত কমিটি ও উদ্ধার অভিযান
বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় মঙ্গলবার ২২ জুলাই একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। সব সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন,
“এই দুর্ঘটনায় জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এটি এক গভীর বেদনার মুহূর্ত।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শোক প্রকাশ করেছেন।
জাতিসংঘ ও ভারতের শোকবার্তা
জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশন একটি অফিসিয়াল বার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স প্ল্যাটফর্মে (পূর্বে টুইটার) দেওয়া পোস্টে লিখেছেন,
“ঢাকায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। ভারত বাংলাদেশের পাশে আছে এবং যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”
