দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও মানবিক ও সবার জন্য সহজলভ্য করতে নতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের বড় অংশই নারী হবেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শহর ও গ্রাম উভয় এলাকায় মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালু করা, যাতে স্বাস্থ্যসেবা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের চিকিৎসায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা চালুর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় কমানো এবং সেবার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, স্বাস্থ্যবীমা চালু ও বিস্তার, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় জোর দেওয়া এবং সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতার জন্য ন্যায়সঙ্গত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে এ খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পৃথিবী গড়তে ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা বাস্তবায়ন জরুরি। এই ধারণায় মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এজন্য চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানের সমন্বিত প্রয়োগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, অগমেন্টেড রিয়েলিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম”—এই নীতির ভিত্তিতে সরকার কাজ করছে। তিনি স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে সবার জন্য সুলভ চিকিৎসা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
