যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার খবরে পাকিস্তানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে অন্তত ২৩ জন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জিও নিউজ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় ১০ জন নিহত হন। গিলগিত-বালতিস্তানের স্কারদুতে নিহত হয়েছেন ১১ জন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুজন।
করাচিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন কনস্যুলেটের দিকে অগ্রসর হলে প্রশাসন আশপাশের সড়কগুলো বন্ধ করে দেয়। সুলতানাবাদ সেতুর নিচে একটি ট্রাফিক পুলিশ পোস্টে আগুন দেওয়া হয়। আইআই চুন্দ্রিগড় রোডে সেন্ট্রাল পুলিশ অফিসের কাছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। নেটিভ জেটি ব্রিজ ও কাস্টমস হাউস সংলগ্ন এলাকাতেও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। করাচির সিভিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত ও আহতদের মধ্যে অনেকে গুলিবিদ্ধ।
সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ গভীর শোক প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন।
লাহোরেও শত শত মানুষ মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে জড়ো হন। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ব্যবহার করা হয়।
রাজধানী ইসলামাবাদের কূটনৈতিক এলাকা ‘রেড জোন’-এ প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা ডিপ্লোম্যাটিক এনক্লেভের দিকে অগ্রসর হলে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ারশেল ও গুলি ছোড়ে। এতে দুজন নিহত ও প্রায় ১০ জন আহত হন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভী শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাকিস্তান ইরানের জনগণের শোকের অংশীদার। একইসঙ্গে শীর্ষ আলেমরাও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাম্প্রতিক এ সহিংসতায় পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
