ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকা মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করার দাবিতে একটি সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে নুরজাহান রোড, টাউন হল হয়ে তাজমহল রোড পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে স্থানীয় ৭০টিরও বেশি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ইমাম ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। কর্মসূচির আগে আলফা স্টার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা হাতে ‘মাদক নয়, স্বপ্ন চাই’, ‘যে মুখে মা ডাকি, সে মুখে মাদক নয়’, ‘গ্যাং নয়, গড়ব ন্যায়নির্ভর সমাজ’—এমন নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান।
আন্দোলনকারীরা জানান, তারা সুশিক্ষা ও সহশিক্ষার মাধ্যমে একটি ন্যায়নীতিভিত্তিক ও নিরাপদ মোহাম্মদপুর-আদাবর গড়ে তুলতে চান, যেখানে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের কোনো স্থান থাকবে না। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মীম ফাতেমা বলেন, “আমরা কেউ মাদক চাই না, কিশোর গ্যাং চাই না। পড়াশোনা করে পরিবার ও দেশের জন্য কিছু করতে চাই।” অভিভাবক সামসুন্নাহার জানান, তার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ভয় দেখায়, যা নিয়ে পরিবারে সবসময় উদ্বেগ বিরাজ করে।
র্যালিতে যুগান্তর সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার বলেন, “মোহাম্মদপুরকে এখন অনেকেই শুধু অপরাধপ্রবণ এলাকা মনে করেন। কিন্তু আজকের র্যালি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এই প্রতিরোধ সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।” বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, “আজকের কর্মসূচি প্রমাণ করেছে, এখানকার মানুষ সচেতন ও দায়িত্বশীল। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মোহাম্মদপুরকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব।”
মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এইচ এম ওয়ালিউল্লাহ বলেন, “শিক্ষক সমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ। অন্যায় দূর করে আমরা শিক্ষার আলোয় সমাজকে আলোকিত করব।” আলফা স্টার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান জানান, “এটি এক দিনের প্রতীকী কর্মসূচি নয়। ধারাবাহিকভাবে সভা, সেমিনার ও কর্মশালার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা হবে।”
র্যালিতে অংশ নেয় লালমাটিয়া গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, পিসিকালচার হাউজিং পাবলিক স্কুল, গাউছিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, আদর্শ ইসলামী মিশন মহিলা কামিল মাদ্রাসা, বেগম শরিফা মেমোরিয়াল স্কুল, কনফিডেন্স মেমোরিয়াল হাইস্কুল, ওয়েস্ট ধানমন্ডি ইউসুফ হাইস্কুল, শের-ই-বাংলা আইডিয়াল স্কুল, আলী হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমন্ডি কচিকণ্ঠ হাইস্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
