ছবি: সংগৃহীত
ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগের পতনের এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই উপলক্ষে সম্ভাব্য অস্থিরতা মোকাবিলায় দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত ১১ দিনের বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।
বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও, সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা দেশ-বিদেশে ছদ্মবেশে সক্রিয় রয়েছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। তাদের গোপন বৈঠক এবং হামলার পরিকল্পনার আশঙ্কায় বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)।
পুলিশের এই বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে বিতর্কিত ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো অনলাইন ও অফলাইনে সংঘবদ্ধভাবে উসকানিমূলক প্রচারণা চালাতে পারে। তারা সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিটি পাঠানো হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, সিটি এসবি, বিভাগীয় উপ-পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম ও খুলনার স্পেশাল পুলিশ সুপার এবং দেশের সব জেলা পুলিশের কাছে।
বিশেষ সতর্কবার্তায় প্রতিটি ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর নজরদারি, সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার এবং সাইবার গোয়েন্দা তৎপরতা তীব্র করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত তল্লাশি অভিযান চলবে। এই সময় ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসসহ সব সন্দেহভাজন যানবাহন তল্লাশি, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন এবং বিমানবন্দর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, মোবাইল পেট্রল জোরদার এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের দিকেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গণমাধ্যমে বলেন, “আওয়ামী লীগের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। পাচার করা অর্থ ব্যবহার করে রাজনৈতিক নৈরাজ্য সৃষ্টির চক্রান্ত চলছে। এ ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা দেশে বা বিদেশে বসে অশান্তির পরিকল্পনায় লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
