যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র করেছেন। সোমবার (স্থানীয় সময়) ১৪টি দেশের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে এসব দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশসহ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, লাওস, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, সার্বিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা, তিউনিসিয়া ও কাজাখস্তান।
ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, পূর্বঘোষিত খাতভিত্তিক শুল্ক যেমন গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের সঙ্গে নতুন শুল্ক একীভূত হবে না। দেশভিত্তিক আলাদা হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪০ শতাংশ লাওস ও মিয়ানমারের ওপর। বাংলাদেশকে ৩৫ শতাংশ শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে ০.৮ শতাংশ পতন ঘটে। তবে এশিয়ার শেয়ারবাজারে তেমন প্রভাব পড়েনি। জাপানের সূচক প্রাথমিক পতনের পর ঘুরে দাঁড়ায় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক ১.৮ শতাংশ বেড়ে যায়।
চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, কেউ পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে তার ওপরও সমপরিমাণ বাড়তি শুল্ক চাপানো হবে। তবে আলোচনার সুযোগও রাখা হয়েছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, যদি তারা পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তাহলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে যোগ হবে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিকভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, বুধবার একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। পোশাক রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান একে “বড় ধাক্কা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ৩৫ শতাংশ শুল্ক বাংলাদেশি পোশাক খাতের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। দেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে, যেখানে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক নিয়োজিত।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী আলোচনা চলছে এবং ১ আগস্টের আগেই অগ্রগতি হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা জোরদার করবে এবং গাড়ি ও ইস্পাতের শুল্ক অব্যাহতির দাবি জানাবে। ইন্দোনেশিয়াও আলোচনার আশ্বাস দিয়েছে এবং একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে পাঠাবে।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে অন্যায্য বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, দক্ষিণ আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ৭৭ শতাংশ পণ্যে কোনো শুল্ক নেই।
চীনের সঙ্গে আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। চীন পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং সতর্ক করেছে যে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে গিয়ে চীনকে বাদ দেবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরও কিছু বাণিজ্য ঘোষণা আসবে। এছাড়া ট্রাম্প ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোকে (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন) সতর্ক করে বলেছেন, অ্যান্টি-আমেরিকান নীতিতে চললে তাদের পণ্যে আরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে।
বিশ্ববাজারে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এখন অপেক্ষা, আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয় কি না।
