ছবি: কালবেলা
দেশের নাগরিকদের প্রায় অর্ধেকই নিজেদের এবং তাদের সম্পদকে নিরাপদ মনে করছেন না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক জরিপ। ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে’ নামে এই জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৪৭ দশমিক ১৭ শতাংশ মানুষ মূল্যবান সম্পদ চুরি বা লুটপাটের আতঙ্কে রয়েছেন, আর ৪১ দশমিক ৭৪ শতাংশ নাগরিক বাড়িঘর ভাঙচুর বা চুরি-ডাকাতির আশঙ্কা করছেন।
শহরের মানুষ গ্রামবাসীর চেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শহর এলাকায় ৫০ দশমিক ৫৫ শতাংশ মানুষ মূল্যবান দ্রব্য হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যেখানে গ্রামে এ হার ৪৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। একইভাবে বাড়িঘর ভাঙচুরের আতঙ্কে শহরের ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ মানুষ রয়েছেন, যা গ্রামের তুলনায় বেশি।
নারীদের মধ্যে ভয় বেশি। জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের ৪৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা মূল্যবান সম্পদ চুরি বা লুটের আশঙ্কায় আছেন, যেখানে পুরুষদের মধ্যে এ হার ৪৪ দশমিক ০৮ শতাংশ। বাড়িঘর ভাঙচুরের আশঙ্কার ক্ষেত্রেও নারীদের মধ্যে এ হার ৪৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ, পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
ছিনতাই বা ডাকাতির সময় শারীরিক আঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ নাগরিক। এখানেও শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বেশি—৪১ দশমিক ২৮ শতাংশ, যেখানে গ্রামের মানুষের মধ্যে এ হার ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ।
অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও হামলার শিকার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। মব ভায়োলেন্সের ভয়াবহতা এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কারণে এর অপব্যবহার নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, কার্যকর আইন প্রয়োগ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কেবল অপরাধের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা, ভয় ও আতঙ্ক আরও বাড়বে এবং তারা নিজেদের নিরাপত্তাহীন বোধ করবেন, যা সুস্থ সমাজ ব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ বার্তা।
জরিপে দেশের ৬৪ জেলার ১ হাজার ৯২০টি পিএসইউ থেকে ৮ লাখ ৩১ হাজার ৮০৭ জন নারী-পুরুষের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে নাগরিকদের নিরাপত্তা, সুশাসন, দুর্নীতি, ন্যায়বিচার, বৈষম্যসহ এসডিজি-১৬-এর ছয়টি সূচকের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মব ভায়োলেন্স বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। তা না হলে নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা কাটবে না।
