২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, ভাতাভোগীদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সম্প্রসারণ, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিত্যপণ্য সরবরাহ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, আটা, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩০টির বেশি পণ্যের ওপর উৎস কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.০৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থ উপদেষ্টা।
প্রস্তাবিত বাজেটে বয়স্ক ভাতা ৬০০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা, বিধবা ভাতা ৫৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা ৮৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির ভাতা ৮৫০ টাকা এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ভাতা ৬৫০ টাকা নির্ধারণের কথাও জানানো হয়।
এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও মাথাপিছু বরাদ্দ বাড়িয়ে আরও ৫ লাখ পরিবারকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ লাখ পরিবারের জন্য এ কর্মসূচির মেয়াদ বাড়িয়ে ছয় মাস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
প্রান্তিক জনগণের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবায় অতিরিক্ত ৪,১৬৬ কোটি টাকা এবং টিকাদান কর্মসূচিতে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব এসেছে বাজেটে। এছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের কথা জানান অর্থ উপদেষ্টা। যুব ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাজেটের প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় লালবাগের বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, “আমরা বাজেটের এত অঙ্ক বুঝি না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমবে কি না সেটাই মুখ্য বিষয়। অর্থ উপদেষ্টা বলেছেন দাম কমবে, আমরা চাই সেটা বাস্তবে দেখতে।”
বাজেট এখনো চূড়ান্ত নয়, তবে প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি স্বস্তির বার্তা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
