ফিলিস্তিনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফার একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে বন্দুক হামলায় অন্তত ৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৬৯ জন আহত হয়েছেন। রোববার এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য দপ্তর ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের ফিল্ড হাসপাতাল।
স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ত্রাণ নিতে আসা নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এতে নিহতদের অধিকাংশের মাথা ও বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে।
তবে আইডিএফ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, রাফা এলাকায় সেনা সদস্যদের উপস্থিতি থাকলেও কোনো হামলা চালানো হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ত্রাণকেন্দ্রে আসা সাধারণ মানুষদের ওপর ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক থেকেও গুলি ছোড়া হয়েছে।
রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটি জানায়, রাফার হাসপাতালে আহত হয়ে ১৭৯ জন ভর্তি হয়েছেন, যাদের সবাই গুলি বা বোমার আঘাতপ্রাপ্ত। সংস্থাটি জানিয়েছে, “এক বছর আগে স্থাপিত ওই হাসপাতালে এই প্রথম এত বিপুল সংখ্যক আহত রোগী একসঙ্গে ভর্তি হলেন।”
অন্যদিকে, ইসরায়েল-সমর্থিত ত্রাণ সংস্থা গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) এ হামলার দাবি অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, “রোববার রাফা কেন্দ্রে সফলভাবে খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”
এই দাবির পক্ষে একটি তারিখবিহীন ভিডিও প্রকাশ করেছে জিএইচএফ। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বহু মানুষ ত্রাণ কেন্দ্রে অপেক্ষা করছেন। তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভিডিওটির সত্যতা ও তারিখ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১১ সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিয়ে আসছে বলে আগেই জানিয়েছে জাতিসংঘ। ফলে গাজার অন্তত ২০ লাখ মানুষ এখন দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে।
জিএইচএফ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত চারটি ত্রাণ কেন্দ্র চালু করেছে এবং আরও ত্রাণ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সূত্র: এপি, রয়টার্স
