সাম্প্রতিক পাক-ভারত সীমান্ত সংঘাতে যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল অনিল চৌহান।
শনিবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংরিলা ডায়লগে ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বিমানের সংখ্যা নয়, বরং কী ভুল হয়েছিল এবং কেন হয়েছিল— সেটি বোঝা আমাদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” যদিও পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী ছয়টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে, সেই সংখ্যাটি “সম্পূর্ণ মিথ্যা” বলে দাবি করেন তিনি। তবে কতটি বিমান হারিয়েছে ভারত, তা স্পষ্ট করেননি জেনারেল চৌহান।
তিনি বলেন, “ভুলগুলো চিহ্নিত করে আমরা দ্রুত সংশোধন করেছি এবং মাত্র দুই দিনের মধ্যে আকাশপথে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আবার হামলায় ফিরেছি।”
পাক-ভারত এই সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরু হয় গত ২২ এপ্রিল, কাশ্মীরে এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর। ভারত এ হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে, যদিও ইসলামাবাদ সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে।
সংঘাতের মধ্যে উভয় পক্ষ বিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি সীমান্তে গুলিবিনিময়ে জড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেন, পাকিস্তান ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। যদিও এই দাবি নিরপেক্ষভাবে যাচাই হয়নি এবং এতদিন ভারত সরকারও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য—যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু যুদ্ধ এড়াতে ভূমিকা রেখেছে— এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান জেনারেল চৌহান। তিনি বলেন, “পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলাম— এমন ধারণা বাস্তবতার থেকে অনেক দূরে।”
তবে তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের পথ সবসময় খোলা ছিল এবং উত্তেজনা প্রশমনে ভারতের হাতে একাধিক কৌশল ছিল।
জেনারেল চৌহান বলেন, “চীনসহ বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে পাকিস্তান যেসব অস্ত্র পেয়েছে, সেগুলোর কার্যকারিতা সীমিত। তবে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থার মতে, সংঘাতকালে চীন পাকিস্তানকে বিমান প্রতিরক্ষা ও স্যাটেলাইট সহায়তা দিয়েছে।”
তিনি জানান, “আমরা পাকিস্তানের সুরক্ষিত ঘাঁটির ৩০০ কিলোমিটার ভেতরে মিটার-নির্ভুলতায় হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছি।”
এদিকে, বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী দাবি করেন, চীনা প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধবিমান দিয়েই পাকিস্তান ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তিনি রাফায়েল চুক্তির কার্যকারিতা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার এই বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জেনারেল চৌহান বলেন, “বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে এটি পাকিস্তানের আচরণের ওপর নির্ভর করবে। আমরা আমাদের স্পষ্ট লাল দাগ টেনে দিয়েছি।”
