ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর শুধু তেহরান নয়, ক্ষোভে ফুঁসছে ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররাও। পরিস্থিতি এমনভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য গবেষণা ফোরামের পরিচালক অধ্যাপক শাহরাম আকবরজাদে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে। কিন্তু প্রতিক্রিয়া শুধু তেহরানের নির্দেশেই সীমিত থাকবে, এমন ভাবার সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় ইরান–ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেরাই হামলায় জড়িয়ে পড়তে পারে।”
তাঁর মতে, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনের যেসব গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত, তারা কেন্দ্রীয় নির্দেশের অপেক্ষা না করেই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে হামলা চালাতে পারে। এতে সরাসরি যুদ্ধের বাইরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে বিস্তৃত সংঘাতের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
অধ্যাপক শাহরাম বলেন, “এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সামরিক ঘাঁটি, কূটনৈতিক মিশন ও অবকাঠামো রয়েছে, যেগুলো এখন সরাসরি হামলার ঝুঁকিতে। পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত আরও জটিল ও সহিংস হয়ে উঠতে পারে।”
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়ালেও, এর প্রতিক্রিয়া শুধু এই দুই দেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে কূটনৈতিক পথে সমাধানের চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের ভাষায়, এ এক “ছায়াযুদ্ধের বাস্তবতা”—যেখানে মূল রাষ্ট্রের বাইরে তাদের প্রভাবাধীন গোষ্ঠীগুলো নানা দিক থেকে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা পরিস্থিতিকে অনিয়ন্ত্রিত করে তুলবে।
