বিএনপি যদি ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযান চালায়, তাহলে উল্টো তারাই বিপাকে পড়তে পারে—এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি।
সম্প্রতি ‘তিনতন্ত্র’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেন। তার মতে, এ ধরনের বড় অভিযান পরিচালনা করতে হলে সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সমর্থন এবং আইনি সুরক্ষা দিতে হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ধরনের সমন্বয় ও আস্থা রয়েছে কি না, তা নিয়েই তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, তালিকা করে সীমিত কিছু মানুষকে ধরলে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তার দাবি, সম্প্রতি যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে নানা মহলে আলোচনা রয়েছে—অনেকে মনে করছেন, এতে মাঠে প্রভাব বিস্তারের হিসাব-নিকাশ থাকতে পারে।
রনি বলেন, যদি সত্যিকার অর্থে চাঁদাবাজি দমন করতে হয়, তাহলে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পুরো চক্রটিকে একসঙ্গে ভেঙে ফেলতে হবে। এজন্য অতীতের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো, বরং আরও শক্তিশালী কোনো পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান সেনাপ্রধানকে দিয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের অভিযানে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে বিএনপির জন্য বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সেনাবাহিনীকে ঘিরে যেসব বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তাতে বাহিনীর ভেতরেও দ্বিধা থাকতে পারে। ফলে কোনো বড় অভিযান হলে তারা আগের মতো দৃঢ়ভাবে ভূমিকা রাখবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত।
শেষে রনি সতর্ক করে বলেন, এমন অভিযান চালানো হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বিএনপিই। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের নিজ দলের নেতাকর্মীরাই এর শিকার হতে পারেন। এতে দলটির সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং রাজনৈতিক মাঠে অন্য দলগুলো প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে।
দেশইনসাইডার/আইএমআর
