শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেছেন এবং দ্রুত বন্ধ কারখানাগুলো চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। খুব শিগগিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা যায়।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে শিল্পকারখানাগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে এবং দেশ আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, শুধু পুরোনো কারখানা চালু করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে এবং শ্রমিকদের জন্য কাজের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।
রাজধানীতে যানজট কমাতে হকার উচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তাদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যাতে তারা নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা করতে পারে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে শ্রমিক ও কৃষক পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ এবং সেচব্যবস্থা উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া জিয়াউর রহমান-এর “নতুন কুঁড়ি” কর্মসূচির আদলে নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে এখনও একটি মহল সক্রিয় রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মহল বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা রাখছে এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এতে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
দেশইনসাইডার/আইএমআর
