ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর আকাশ প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকাতেই জঙ্গিবিমান ঘাঁটি থাকা অত্যাবশ্যক বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার কমোডর শহিদুল ইসলাম।
সোমবার (৩১ জুলাই) দুপুরে তেজগাঁওয়ে অ্যাভিয়েশন ইউনিভার্সিটির পুরাতন পিএসসি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য, বিশেষ করে রাজধানীর আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে এবং কৌশলগত ও কার্যকর প্রয়োজনীয়তা মেটাতে ঢাকায় বিমানঘাঁটি থাকা অপরিহার্য।
ঢাকা থেকে যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ ঘাঁটি সরানো হবে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধবিমান পরিচালনায় বিস্তৃত এলাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজধানীর আকাশ প্রতিরক্ষায় এই ঘাঁটির গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বের অনেক দেশের রাজধানীতেই এমন ঘাঁটি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিমানবাহিনীর জরুরি সমন্বয়ক কেন্দ্রের এয়ার কমোডর মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকবে বিমানবাহিনী এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করা হবে।
তিনি উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
দুর্ঘটনার সময় পাইলটের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ ছিল কি না— জানতে চাইলে মিজানুর রহমান জানান, এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তদন্ত করে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে। তিনি জানান, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পাইলট তৌকিরের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুর্ঘটনার দিন ৭৩৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৫৩৮ জন। স্কুল কবে খুলবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে যত দ্রুত সম্ভব পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ২১ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান রাজধানীর দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় এই সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিশু।
আহত ও দগ্ধ ৩৪ জন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ২২ জন, সিএমএইচে ১১ জন এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ১ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।
