বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলাসহ ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর ও কাস্টমস বিভাগের ১৪ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সিদ্ধান্ত জানায়। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা এনবিআরের চলমান সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
সকালে বরখাস্ত করা হয় কর বিভাগের পাঁচ যুগ্ম কর কমিশনার এবং তিন উপ-কর কমিশনারকে। এরা হলেন— মাসুমা খাতুন (কর অঞ্চল-২), মুরাদ আহমদ (কর অঞ্চল-১৫), মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন (কুষ্টিয়া), মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা (নোয়াখালী), আশরাফুল আলম প্রধান (কক্সবাজার), উপ-কর কমিশনার শিহাবুল ইসলাম, নুসরাত জাহান শমী (রংপুর) এবং ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল (কুমিল্লা)।
পরে আরও ছয় কর্মকর্তা বরখাস্ত হন। তারা হলেন— কর অঞ্চল-৮, ঢাকার অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা; এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব মো. শাহাদাত জামিল; মূসক নিরীক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার (যিনি এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি); ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক সিফাত-ই-মরিয়ম; ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া এবং খুলনা ভ্যাট কমিশনারেটের শফিউল বশর।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২২ জুন জারি করা বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার মাধ্যমে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। এর প্রেক্ষিতে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তারা বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা পাবেন।
গত ২১ ও ২২ জুন এনবিআরের দুই দফা বদলির আদেশে কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়। তবে কেউ নতুন দায়িত্বে যোগ না দিয়ে আন্দোলনে যুক্ত হন। ২৪ জুন আন্দোলনের অংশ হিসেবে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে বদলির আদেশের কপি প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেন।
এর আগে, চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই ২ জুলাই চার শীর্ষ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় এবং ১ জুলাই চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে ওএসডি করা হয়।
এনবিআরে সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও কর্মকর্তাদের বদলি নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে সংস্থাটির কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
