রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ‘হতাশা’ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি মস্কোকে ৫০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ না হলে রাশিয়ার ওপর শতভাগ নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প।
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ জুলাই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক ফোনালাপে ট্রাম্প জিজ্ঞাসা করেন, “তুমি কি মস্কোতে আঘাত হানতে পারবে? সেন্ট পিটার্সবার্গেও কি পারবে?” জেলেনস্কি জবাবে বলেন, “অবশ্যই পারব, যদি আপনি আমাদের অস্ত্র দেন।”
ফোনালাপের সূত্র ধরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, রাশিয়াকে ‘যন্ত্রণার স্বাদ’ দেওয়ার জন্যই ট্রাম্পের নতুন কৌশল। তাঁর বিশ্বাস, এই চাপ পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করবে। রাশিয়ার রাজধানী ও অন্যান্য বড় শহরে হামলা নিয়ে এটিই ট্রাম্পের সবচেয়ে স্পষ্ট অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফোনালাপের সত্যতা নিশ্চিত করেনি, তবে ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, পুতিনের সঙ্গে কোনো অগ্রগতি না পেয়ে ট্রাম্প এখন ইউক্রেনকে আরও আগ্রাসী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইউক্রেনকে পেট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করা হবে। তার ভাষায়, “পুতিন দিনের বেলায় শান্তির কথা বলেন, কিন্তু রাত নামতেই সবাইকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেন।”
এছাড়া তিনি জানান, ন্যাটো সদস্যদের সহযোগিতায় ইউক্রেনের জন্য নতুন সামরিক সহায়তার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রয়েছে। এই সহায়তার লক্ষ্য—রাশিয়ার ওপর চাপ তৈরি করে আলোচনার টেবিলে আনতে বাধ্য করা এবং যুদ্ধের অবসান ঘটানো।
রাশিয়া এরই মধ্যে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, এই ধরনের অবস্থান যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করবে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “ওয়াশিংটন ও ন্যাটোর সিদ্ধান্ত কিয়েভকে শান্তির পথে নয়, বরং যুদ্ধের দিকেই উসকানি দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এটি বিশ্লেষণে আমাদের কিছু সময় লাগবে।”
প্রসঙ্গত, ইউক্রেন যুদ্ধ চতুর্থ বছরে পা দিয়েছে। শুরুতে একদিনেই যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও ট্রাম্প এখন পুতিনের কৌশলের সামনে নিজ অবস্থান কঠোর করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি আলোচনায় পুতিনের অনীহাই ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনের মূল কারণ।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্পের এই কৌশলে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং পশ্চিমা জোট ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।
