চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুর ২টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একযোগে প্রকাশিত হবে। মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে ফল প্রস্তুত করেছে বোর্ডগুলো। তবে এবার ফলের ধরনে আসছে বড় পরিবর্তন—সহানুভূতিভিত্তিক নম্বর প্রদান পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে বাস্তবভিত্তিক মূল্যায়নের পথে হাঁটছে শিক্ষা প্রশাসন।
পরীক্ষা গ্রহণকারী বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের খাতা মূল্যায়নে অতিরিক্ত নম্বর বা ‘সহানুভূতির নম্বর’ দেওয়া হয়নি। অতীতে ২৮ বা ৩০ নম্বর পেলেও পরীক্ষার্থীকে ৩৩ নম্বর দিয়ে পাশ করানোর অলিখিত নির্দেশনা থাকত, এমনকি অপ্রাসঙ্গিক উত্তরেও নম্বর দেওয়ার নজির ছিল। এবার সে ধারা ভেঙে শিক্ষার্থীর প্রকৃত উত্তরের ভিত্তিতেই নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে করে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, “আমরা বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েছি। উদ্দেশ্য শুধু বেশি জিপিএ-৫ নয়, বরং প্রকৃত মেধাবীদের তুলে আনা।”
শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার জানান, এবার ফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় অতি জাঁকজমক নয়, বরং স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আজ দুপুর ২টার পর শিক্ষার্থীরা www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে নিজেদের ফল জানতে পারবে।
এসএমএসে ফল জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে:
SSC বোর্ডের_প্রথম_তিন_অক্ষর রোল_নম্বর 2025
এবং পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।
উদাহরণ: SSC DHA 123456 2025
ফল প্রকাশের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে এবারের পরীক্ষায় অনুপস্থিতির চিত্র। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণ করেও ৬ হাজার ৩৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়নি। জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৩৫০ জন অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ শতাংশই পরীক্ষায় অংশ নেয়নি বিয়ের কারণে। এই শিক্ষার্থীদের ৯৭ শতাংশই কিশোরী এবং অধিকাংশই গ্রামীণ এলাকার।
জরিপ বলছে, অনুপস্থিতদের মধ্যে ২৫% অসুস্থতা, ১২% প্রস্তুতির অভাব, ৬.৭% কর্মজীবনে প্রবেশ, ৩.৬% বিদেশে যাওয়া, ১.৬% গর্ভধারণ এবং ১.৪% মৃত্যুজনিত কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অনুপস্থিতদের অর্ধেকেরও বেশি জানিয়েছেন তারা আর পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন না—তাদের মধ্যে ৭৪ শতাংশই কিশোরী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “বিয়ের মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষাজীবন থেমে যাচ্ছে। এখনো গ্রামাঞ্চলে ‘মেয়ে বড় হলেই বিয়ে দিতে হবে’—এই মানসিকতা প্রবলভাবে বিরাজমান।”
প্রথমবার ২০০১ সালে চালু হওয়া গ্রেডিং পদ্ধতিতে মাত্র ৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যায় এই অগ্রগতি গর্বের হলেও মানের প্রশ্নে পিছিয়ে ছিল দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। এবার সেই মানোন্নয়নের পথে একধাপ এগিয়ে গেল শিক্ষা বোর্ডগুলো।
