বাংলাদেশের দেড় কোটি প্রবাসী নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রবাসীরা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে রিজার্ভ সমৃদ্ধ করছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। হাইকোর্টের রায় থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি কোনো সরকার।
শুক্রবার ( ৪ জুলাই) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রবাসী ভোটাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ যুক্তরাজ্যের আয়োজনে সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ব্যারিস্টার নাজির আহমদ লিখিত বক্তব্যের মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়েছে সেই রায়ের প্রেক্ষিতে। অথচ এত দিন হয়ে গেলেও কোনো সরকার দেড় কোটি প্রবাসীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর জন্য যে তিন কোটি টাকার বেশি খরচ হয়নি, তা নই, বরং এই ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হতে পারে। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দেশের মানুষ উপকৃত হবে। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। প্রবাসীদের ভোট শুধু ছিন বা বোঝার নয়। তাদের প্রাপ্য ভোটাধিকার পেতে হবে। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে এখনই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য ইমেইল বা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব। এতে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত হবে। দেড় কোটি প্রবাসীর ভোট দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে মত তাদের।
এদিকে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা প্রবাসীদের গুরুত্বের কথা বললেও, ভোটাধিকার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বাস্তব উদ্যোগ নেই। ফলে প্রবাসীরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্বের প্রায় ১৩০টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করলে দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দ্রুত সমঝোতা করে দেড় কোটি প্রবাসীর ভোটাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সচেতনতা বাড়ানোর উপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করতে সহায়ক হবে বলেও মত প্রকাশ করেছেন বক্তারা।
