জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার গাজায় খাদ্য সরবরাহে ইসরাইলের অবরোধকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ফিলিস্তিনের গাজার ওপর দীর্ঘদিনের অবরোধ এবং সামান্য ত্রাণ সরবরাহ পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলেছে। ফ্লেচার বলেন, “খাদ্যকে হাতিয়ার বানিয়ে একটি জনগোষ্ঠীকে নিশ্বেষ করার ঘটনা যুদ্ধাপরাধ।”
গত কয়েক মাস ধরে গাজায় খাদ্য ও জরুরি ত্রাণের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে ইসরাইল। সীমান্তে খাদ্য সরবরাহ আটকে রাখা হচ্ছে, এতে লাখো মানুষ অনাহারে পড়েছে। ত্রাণ সরবরাহের জন্য সাম্প্রতিক অনুমতিটি খুবই সীমিত। এই পরিস্থিতিতে গাজায় ত্রাণ কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে, যার ফলে কমপক্ষে দুই জন নিহত হয়েছেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বলেছেন, গাজার সংকট দ্রুত সমাধান না হলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডা যৌথভাবে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে।
ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্টও একই অভিযোগ তুলে যুদ্ধ বন্ধে চাপ দিয়েছিলেন।
টম ফ্লেচার আরও বলেন, ইসরাইলি সরকার গাজার জনগণকে তৃতীয় দেশে বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনা করছে, যা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। তিনি নেতানিয়াহুকে এই নৃশংস নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইসরাইল গত ১৮ মার্চ দুই মাসের একতরফা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে গাজায় ব্যাপক হামলা চালায় এবং হাজার হাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। ইউরোপের দেশগুলো বর্তমানে ইসরাইলের এই সহিংসতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিচ্ছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ফ্লেচার বলেন, “গাজার গণহত্যা বন্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। ইতিহাস আমাদের কঠোর বিচার করবে।” তিনি রোয়ান্ডা, সেব্রেনিৎসা ও শ্রীলঙ্কার গণহত্যার উদাহরণ দিয়ে সতর্ক করেছেন, বিশ্ববাসী আর এসব ভুল করতে পারবে না।
