ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানির ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে বড় ধরনের বাণিজ্য চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। তবে সাম্প্রতিক এক রায়ে দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত এই শুল্ক স্থগিত করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে বাংলাদেশ এখন আরও বেশি আমেরিকান তুলা, জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাপানে নিক্কেই এশিয়ার বার্ষিক ‘ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনের ফাঁকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেহেতু তার দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চান, বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “যদি আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা কিনি, তাহলে অন্য দেশ থেকে আমদানি কমিয়ে ওই ঘাটতি হ্রাস করা সম্ভব।”
বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৭.৯ বিলিয়ন ডলারের কাঁচা তুলা আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে ভারত ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো থেকে। গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৬১ মিলিয়ন ডলার।
ড. ইউনূস বলেন, আমেরিকান তুলা আমদানি বাড়ালে দেশটির কংগ্রেস ও সিনেটের প্রভাবশালী কৃষি রাজনীতিবিদদের সমর্থন পাওয়া সম্ভব, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সুবিধা আনতে পারে।
শুধু তুলা নয়, বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও জ্বালানি তেল ও গ্যাস কেনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে জানান ড. ইউনূস। তবে বাণিজ্য আলোচনার সময়সীমা ও শুল্ক ছাড়ের হার নিয়ে তিনি এখনই কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেননি। তার ভাষায়, “আমরা এটা হুমকি হিসেবে দেখছি না, বরং সুযোগ হিসেবেই নিচ্ছি।”
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের রায় বাংলাদেশকে কূটনৈতিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আদালত রায়ে জানিয়েছেন, বাণিজ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে, প্রেসিডেন্ট এককভাবে তা বাতিল করতে পারেন না।
