সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আজ মঙ্গলবার (২৭ মে) সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একইসঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
সোমবার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবালয় নিরাপত্তা শাখার উপসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “অনিবার্য কারণবশত আগামীকাল ২৭ মে মঙ্গলবার সচিবালয়ে সব ধরনের দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ থাকবে।” এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ডিএমপির পক্ষ থেকেও সোমবার রাতেই এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচিবালয়, যমুনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পূর্বঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। ১০ মে জারি করা ডিএমপির নির্দেশনা অনুসারে, এই এলাকায় যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, মিছিল বা শোভাযাত্রা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ।
ডিএমপি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
এরই মধ্যে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরাম ঘোষণা দিয়েছে, তারা আজ মঙ্গলবারও সচিবালয়ের ভেতরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। একইসঙ্গে তারা সারা দেশের সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের একই দাবিতে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে।
গতকাল সোমবার ছিল টানা তৃতীয় দিন, যখন সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা নিজ নিজ কক্ষে কর্মবিরতি পালন করে এবং বাইরে এসে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা দাবি জানাচ্ছেন, নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে সরকারি চাকরির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
চলমান এই বিক্ষোভ এবং নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আজ সচিবালয়ে পরিস্থিতি কেমন থাকে, তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্বেগ।
