রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশ মানবিক করিডোর দিয়েছে—এমন খবরকে ‘সর্বৈব মিথ্যা’ ও ‘চিলে কান নিয়ে যাওয়ার গল্প’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, রাখাইনের জন্য বাংলাদেশ করিডোর দিয়ে দিয়েছে বলে একটি অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি সুস্পষ্টভাবে বলছি, এটি সর্বৈব মিথ্যা। এটা চিলে কান নিয়ে যাওয়ার গল্প।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব গত মার্চে ঢাকা সফরকালে রাখাইনে মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলায় একটি ত্রাণ চ্যানেলের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা এখনও প্রস্তাব পর্যায়েই আছে। “এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি, এবং করিডোরের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি,” বলেন ইউনূস।
তিনি আরও বলেন, “যারা অসত্য কল্পকাহিনী বানিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা ছড়াতে চায়, এটি তাদের অপপ্রচার। এ বিষয়ে সবাইকে হুঁশিয়ার থাকতে হবে। বিভ্রান্ত না হয়ে আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাব।”
প্রধান উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে এবং ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন করে আরও প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। রাখাইনে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখনো অনেক রোহিঙ্গা পালিয়ে আসার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সরকারের কূটনৈতিক অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এ বছর সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে সেই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।”
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি মিয়ানমার সরকার প্রথমবারের মতো ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে।
প্রসঙ্গত, মানবিক করিডোর নিয়ে চলমান বিতর্কে গত মে মাসেও একাধিকবার সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে। প্রথমে তিনি করিডোরের বিষয়টি জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে উপস্থাপনের কথা বললেও পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে এসে গুজব বলে অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে সেনাবাহিনী থেকেও জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়—এমন কোনো পদক্ষেপে তারা সম্পৃক্ত হবে না।
