ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন অব্যাহত রেখেছে। মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর ও সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ৯৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ৪ মে থেকে এ পর্যন্ত এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩৩ জনে।

মঙ্গলবার ভোরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী সীমান্তের ১০৬৭ নম্বর পিলার সংলগ্ন নোম্যান্সল্যান্ড দিয়ে ১৪ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবি এ তৎপরতা প্রতিহত করে। এ ঘটনার জেরে উভয় বাহিনীর মধ্যে কয়েক ঘণ্টা উত্তেজনা ছড়ায়। বিএসএফ সীমান্তে ফাঁকা গুলি চালায় ও সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। আকাশে ড্রোন উড়তেও দেখা যায়।
বিজিবি জানিয়েছে, ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিদের আবার নোম্যান্সল্যান্ডে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিএসএফ এর কোনো সাড়া দেয়নি।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়। বড়াইবাড়ী এলাকার বাসিন্দা নুরুল হক জানান, ভোরে কয়েক দফা গুলির শব্দ ও ককটেল বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনেছেন তারা। পরিস্থিতি এখনো থমথমে।
ঘটনাস্থলে থাকা সংবাদকর্মী সোহেল রানা জানান, ঠেলে দেওয়া ১৪ জনের সবাই নিজেদের ভারতীয় নাগরিক দাবি করেছেন। তাদের মধ্যে একজন আসামের মরিগাঁও জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে পরিচয় দিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সীমান্তে পুশইন বেড়েছে। আমরা এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং ভারতকে বলেছি, যারা প্রকৃত বাংলাদেশি, তাদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে ফেরত পাঠানো হোক। উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সীমান্তে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই বলেও তিনি জানান।
বড়াইবাড়ীর পাশাপাশি কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী সীমান্ত দিয়েও এদিন ২২ জনকে ঠেলে দেয় বিএসএফ। বিজিবি তাদের আটক করে হেফাজতে নিয়েছে।
একইদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বিভীষণ সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। বিজিবি তাদের আটক করে থানায় হস্তান্তর করে। আটক ব্যক্তিরা জানান, তারা এক যুগ আগে কুড়িগ্রাম থেকে ভারতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে ইটভাটায় কাজ করতেন। তাদের সন্তানরাও সেখানেই জন্ম নেয়।
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর সীমান্ত দিয়ে দুই দিনে ৩০ নারী ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় বিএসএফ। তাদের মুজিবনগর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে রোববার একই সীমান্ত দিয়ে ১৯ জনকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।
সাতক্ষীরার কুশখালী সীমান্ত দিয়েও ২৩ জন বাংলাভাষীকে ঠেলে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার ভোরে এদের মধ্যে ৯ শিশু, সাতজন নারী ও সাতজন পুরুষ রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা কুড়িগ্রাম ও ঝালকাঠির বাসিন্দা। তাদের বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
সীমান্তজুড়ে পুশইনের এই ধারাবাহিকতা ঘিরে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, প্রত্যেক ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
