শনিবার (২ মে) ঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি ছয়জন তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীর স্বাক্ষরে ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ৮ সদস্যের একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের তালিকায় সুজনের নাম রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলনের করা ওই মামলায় তিনি ২৫ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখিত হন। এই প্রেক্ষিতে মামলার আসামির নেতৃত্বে রাজনীতি করা সম্ভব নয়—এমন যুক্তি দেখিয়ে কমিটির অধিকাংশ সদস্য পদত্যাগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে এনামুল হক সুজন দাবি করেছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এদিকে ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, সুজন একজন পরীক্ষিত কর্মী এবং তাকে ষড়যন্ত্র করে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন নেতারাও জানেন।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী জানান, সুজনের মামলার বিষয়টি আগে তাদের জানা ছিল না। বিষয়টি সামনে আসার পর কমিটির অন্য সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন। এ নিয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ মোট ১৭৮ জনকে আসামি করে করা মামলাটি ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ফেনী সদর আমলি আদালত গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। তদন্তাধীন মামলার একজন আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দেশইনসাইডার/আইএমআর
