ছবি: সংগৃহীত
তিন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)সহ ২৪ আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাতের নতুন অভিযোগ যুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ জুন) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক শামসুজ্জোহা সরকার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিনহাজুর রহমানের আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি গ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম।
এর আগে গত ২২ জুন বিএনপির পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে অভিযোগ করা হয়— অতীতের তিনটি জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন সংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে, বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে।
মামলায় ২০১৪ সালের নির্বাচনের তৎকালীন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, ২০১৮ সালের নির্বাচনের তৎকালীন সিইসি এ কে এম নূরুল হুদা এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের তৎকালীন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া আসামির তালিকায় রয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ কে এম শহীদুল হক, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজির আহমেদ এবং চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদস্থ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট তিনটি নির্বাচনে গায়েবি মামলা, অপহরণ, গুম, খুন ও নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়। এমনকি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে, সরকারি কর্মচারী হয়েও অবৈধভাবে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে এবং জনগণের ভোট ছাড়াই প্রার্থীদের সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করেছে— যা দণ্ডনীয় অপরাধ।
আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোর ভোটার, ভোট বঞ্চিত সাধারণ মানুষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য, প্রিজাইডিং অফিসার ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের। মামলায় আরও বলা হয়েছে, ব্যালট পেপারে থাকা সিল ও স্বাক্ষর বিশ্লেষণের মাধ্যমেও প্রকৃত ভোটারদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা তদন্তে সত্য উদঘাটনে সহায়ক হবে।
